লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশী জাহিদুল ইসলামের (২২) মরদেহ ফেরত দিয়েছে দেশটির পুলিশ। গতকাল দুপুরে ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে ভারতীয় মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ।

জাহিদুল ইসলাম পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে। গত বুধবার ভোরে ওই উপজেলার শ্রীরামপুর সীমান্তের ৮৫২ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বিএসএফের গুলিতে নিহত হন জাহিদুল। এরপর বিএসএফ ও মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিজিবি-বিএসএফ দফায় দফায় পতাকা বৈঠক করে।

গতকাল দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর সীমান্তের ৮৫৩ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারসহ সদস্যদের উপস্থিতিতে ভারতীয় কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় রায় নিহত জাহিদুল ইসলামের মরদেহ ফেরত দেন পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্তের কাছে।

এর আগে গত বুধবার ভোরে ওই সীমান্তের ৮৫২ নম্বর মেইন পিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহায়তায় বাংলাদেশী গরু পারাপারকারী একটি দল গরু আনতে গেলে ভারতীয় কোচবিহার-১৪০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের রতনপুর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দলের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় জাহিদুল ইসলাম। এ সময় গুলিতে ভারতীয় ও বাংলাদেশী আরো একজন করে দুজন গরু পারাপারকারী সদস্য আহত হন।

রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শমসেরনগর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আজহারুল ইসলাম ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে নিহত জাহিদুল ইসলামের মরদেহ ফেরত দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদপত্র দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, দুপুরে ভারতীয় বিএসএফ ও বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতিতে ভারতে ময়নাতদন্ত শেষে জাহিদুল ইসলামের মরদেহ মেখলিগঞ্জ থানার ওসি মৃত্যুঞ্জয় রায়ের কাছ থেকে আমি বুঝে নিয়ে তার বাবা দুলাল হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেছি। বিএসএফের গুলিতেই জাহিদুলের মৃত্যুর বিষয়টি ভারতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।