হঠাৎ করেই বরিশালে শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। একটানা ৪০ মিনিট করে লোডশেডিং হচ্ছে। মহানগরীতে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৮০-৮৫ মেগাওয়াট। সে অনুপাতে ২৪টি ফিডারের মধ্যে ৩০-৪৬ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে। গ্রাহকরা বলছেন, এপ্রিলের শুরুতেই তাপমাত্রার পারদ ঠেকেছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে হাঁপিয়ে উঠেছেন বরিশালের ১ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ফুয়েল সংকটের কারণে কিছু উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এ কারণে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। শিগগিরই তা কেটে যাবে।
গ্রাহকরা জানান, তারাবির নামাজ ও ঈদের কেনাকাটার সময়ে হঠাৎ লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। আইপিএস, ইউপিএস এবং জেনারেটরনির্ভর হয়ে গেছে এখানকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা।
দোকানি কামাল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুৎ যে কখন আসে, তা বলতে পারি না। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায়। ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা খুবই খারাপ। বরিশালের অবস্থা এমন খারাপ কোনো দিনই ছিল না। বিদ্যুৎ ছাড়া চলছি। বিদ্যুৎ সংকটে কোনো কাজই সঠিক সময়ে করা যাচ্ছে না।’
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মধ্যে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পিরোজপুরে প্রতিদিনের চাহিদা রয়েছে ৪৮০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় সরবরাহ করা হয়েছে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ সময়ে বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল ১২০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে শুধু বরিশাল মহানগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৮০-৮৫ মেগাওয়াট। মহানগরীর ২৪টি ফিডারের মধ্যে ৩০-৪৬ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এখানে চাহিদা অনুযায়ী জোগান না থাকায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি সামলে ওঠা গেলে সব স্বাভাবিক হবে। শপিংমল ও কারখানা এলাকায় যাতে বেচাকেনা ও উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে এজন্য এসব এলাকায় লোডশেডিং অনেকটা এড়িয়ে আবাসন এলাকায় বেশি করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বরিশাল পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, একে তো তাপমাত্রা বেড়েছে, অন্যদিকে শপিংমলগুলোয় রাত অবধি বেচাকেনা চলছে। একই সময়ে গ্রিড থেকে চাহিদামতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।’
তবে গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান তিনি। এ সমস্যা সাময়িক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফুয়েল সংকটের কারণে কিছু উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংকট শিগগিরই কেটে যাবে।’










