প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পাঠ্যপুস্তক, পাঠ্যপুস্তকের কার্যপ্রণালি, শিক্ষাক্রম সবকিছু আমরা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে করছি। সৃজনশীল শিক্ষা ব্যবস্থা, মেধা অন্বেষণ, মেধার মাধ্যমে শিক্ষাকে আরো আপন করে নেয়া—এসব পদ্ধতিতে আমরা আসতে চাই।’
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল এক অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান এ কথা বলেন। শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের (পিএমইএটি) অধীনে অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি ও টিউশন ফি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
শিক্ষাবৃত্তির জন্য অনুদান দিতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেক বিত্তবান আছে। কিছু লোকের তো বেশ টাকাপয়সা হয়ে গেছে। বিত্তবানরা যদি এ ট্রাস্টে অনুদান দেয়, তাহলে আমরা আরো বেশি করে ব্যবহার করতে পারব।’
বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ফান্ড থেকে এ তহবিলে অন্তত ২ কোটি টাকা অনুদান দেয়ার ঘোষণা দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছোট বোন শেখ রেহানার সঙ্গে আলোচনা করে এটা দিয়ে দেব। আমরা নিজেরাও বৃত্তি দিচ্ছি। এখানে দিতে পারলে নিজেদের একটু আত্মতৃপ্তি হবে।’
এবার মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও সমমানের ৬৪ লাখ ৭০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ২ হাজার ২০৮ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ‘বঙ্গবন্ধু সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ’-এর পুরস্কার এবং ২০২৩ সালের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্কলার অ্যাওয়ার্ড’ বিতরণ করেন।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘সারাক্ষণ যদি কেউ বলে পড় পড় পড়, এটা কি ভালো লাগে বলো? মোটেই ভালো লাগে না। যা একটু পড়ার ইচ্ছা থাকে, সেটাও নষ্ট হয়ে যায়। এটা বাস্তব কথা। সেজন্য এমনভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েছি যেন ছেলেমেয়েরা আগ্রহ নিয়ে পড়ে।’ কে কী বলল তার জন্য চোখের পানি ফেলে মুখ না লুকিয়ে নিজের বিশ্বাস থেকে শেখার তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তাহলে এ দেশকে তোমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে।’
বিজ্ঞান, গবেষণা ও প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জনে তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ জ্ঞান ছাড়া কোনো দেশের পক্ষে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘একসময় কেউ কম্পিউটার ব্যবহার করত না। সব ফোন অ্যানালগ ছিল। আমরা সব টেলিফোন সিস্টেমকে ডিজিটালাইজ করি, কম্পিউটার শিক্ষার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিই।’
শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শামসুন্নাহার চাঁপা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান উপস্থিত ছিলেন।










