আন্তর্জাতিক নারী দিবসে এনসিপির নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির আত্মপ্রকাশ হয়েছে। আজ দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারীশক্তির তিন সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এতে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক, মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্যসচিব ও নুসরাত তাবাসসুমকে মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মনিরা ও নুসরাত এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বেও আছেন। আর মাহমুদা এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব।
ডিআরইউতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নারীশক্তির আত্মপ্রকাশের পাশাপাশি নারী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করে এনসিপি। আলোচনা সভার শিরোনাম ‘সাম্প্রতিককালে নারীর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রতিকার এবং ধর্ষণের বিচার’।
এ সময় মনিরা শারমিন বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন দীর্ঘদিন ধরে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। নারীরা যোগ্যতায় কোনো অংশে কম নয়। নির্বাচনে নারীদের আরো বেশি অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিত। নারীদের বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ধর্ষণসহ সহিংসতার ঘটনায় অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই আন্দোলনের সময় সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন নারীরাই। ১৫ জুলাইয়েও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল, এ আন্দোলনের অগ্রভাগে নারী শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এসেছিলেন।
নাহিদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকলেও পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে তাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এর অন্যতম কারণ সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার পাশাপাশি অনলাইন সাইবার বুলিং। অনেক নারী রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও মানসিক হয়রানির শিকার হন।
তিনি আরো বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং অপরাধী যেই হোক, দল-মত নির্বিশেষে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেয়া নারী ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের বড় অবদান ছিল। অনেক নারী পরবর্তীতে আড়ালে চলে গেছেন। তবে যারা কাজ করেন তারা কখনো হারিয়ে যান না। ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় বেশি প্রচার না করে বরং অপরাধীর পরিচয় সামনে আনার আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে নারীদের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সংগঠিত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফসিন মেহেনাজ আজিরিন বলেন, কোনো নারী রাজনীতিতে এলে সমাজ অনেক সময় তা ভালো চোখে দেখে না। এ মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক চাপ ছাড়া বিচার পাওয়া যায় না। তাই নারীদের স্বার্থে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক প্লাটফর্ম দরকার, যেখান থেকে নারীরাই প্রেশার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নারীসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।










