ফরিদপুরে দুদকের দায়েরকৃত প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের চাল আত্মসাতের মামলায় খাদ্য কর্মকর্তা তারিকুজ্জামানকে (৪৬) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল বিকালে ফরিদপুর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তার জামিন প্রার্থনা নামঞ্জুর করা হয়। বিচারক জিয়া হায়দার তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ পাহারায় তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

তারিকুজ্জামান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার বড় পারুলিয়া গ্রামের জয়নাল আবেদীন শরীফের ছেলে। তিনি প্রধান খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে রেশনিং বিভাগের এলাকা রেশনিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, তারিকুজ্জামান সাবেক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) এবং চরভদ্রাসন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্বে থাকাকালীন সানোয়ার হোসেন নামের এক সহকর্মীর সহযোগিতায় চরভদ্রাসন উপজেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৫০১ টাকা মূল্যের চাল আত্মসাৎ করেন। এ অভিযোগে ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার আবুল বাশার তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় এ দুই কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। সানোয়ার হোসেন তখন বোয়ালমারী উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ছিলেন এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফরিদপুর দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন গত ২৯ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরা হয়েছে। দুদক কর্মকর্তা ইমরান আকন জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত সম্পন্ন করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। মামলায় তারিকুজ্জামান আদালতে জামিন প্রার্থনা করলে তা নামঞ্জুর করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।