আন্তর্জাতিক বাজারে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি ও ব্যবসায়িক পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ফ্লাইট ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত করে আনছে ভারতের এয়ারলাইনস এয়ার ইন্ডিয়া। ঢাকা-দিল্লি ও ঢাকা-মুম্বাই রুটে আগে সপ্তাহের প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করলেও সংস্থাটি বর্তমানে তা পাঁচদিনে নামিয়ে এনেছে। একই সঙ্গে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত একাধিক কর্মকর্তাকে দেয়া হয়েছে অব্যাহতির নোটিস।
এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে এভিয়েশন ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক উড্ডয়ন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা ব্যবহারে বিধিনিষেধের কারণে এয়ার ইন্ডিয়ার পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক রুটগুলোয় ব্যয় কমানো ও ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব ধরে রাখতে নিজেদের নেটওয়ার্ক পুনর্গঠন করছে এয়ারলাইনসটি। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশেও কার্যক্রম কমিয়ে আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এয়ারলাইনসটির কর্মকর্তারা।
ঢাকা-দিল্লি ও ঢাকা-মুম্বাই রুটে আগে সপ্তাহের সাতদিনই ফ্লাইট পরিচালনা করত এয়ার ইন্ডিয়া। বর্তমানে দুই রুটেই ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে সপ্তাহে পাঁচদিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে ঢাকায় এয়ার ইন্ডিয়ার গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ট্রাফিক ও প্রশাসনিক কাজের পরিধিও সংকুচিত হয়েছে আগের তুলনায়।
কার্যক্রম কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে ঢাকার অফিসের জনবল ব্যবস্থাপনায়ও। বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি ঢাকার ট্রাফিক অফিসারসহ একাধিক কর্মীকে অব্যাহতির নোটিস দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। নোটিসে কার্যক্রম কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরে আঞ্চলিক এভিয়েশন বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। একই সময়ে জ্বালানি, বিমান পরিচালনা ও অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন বিদেশী এয়ারলাইনস তাদের আন্তর্জাতিক রুট ও ফ্লাইটসূচি নতুন করে সাজাচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বাংলাদেশে কার্যক্রম সীমিত করার ঘটনাও সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লাইট কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত আকাশপথে যাত্রীদের ভ্রমণ বিকল্প কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগের প্রতিযোগিতা ও টিকিটের দামের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এয়ার ইন্ডিয়া ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বাজারে তাদের কার্যক্রম আবার বাড়াবে কিনা, তা নির্ভর করবে যাত্রী চাহিদা ও রুটগুলোর ব্যবসায়িক সম্ভাবনার ওপর।
এ বিষয়ে এয়ার ইন্ডিয়া লিমিটেডের বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার মরগান মিল্টন ডি’সুজার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।










