টানা ছুটিতে কক্সবাজারে লাখো পর্যটকের আগমন ঘটেছে। বিপুল পর্যটকের কারণে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে অগ্রিম রুম বুকিং হয়ে গিয়েছে। এ কারণে রুম ও পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে।

গতকাল সকাল থেকে সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিল। প্রায় দুই লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিচ কর্মীরা।

পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান, ১ অক্টোবর থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ছুটি চলবে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। এর মধ্যে দুর্গা পূজা, ঈদে মিলাদুন্নবী ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সরকারি অফিস-আদালত ছুটি। টানা ছুটিতে সৈকতে এসেছেন প্রায় দুই লাখ পর্যটক। এরই মধ্যে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের সব রুম বুকিং হয়ে গিয়েছে। এজন্য অগ্রিম বুকিং বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, গত দুই বছর করোনার কারণে পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রায় বন্ধ ছিল। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত ঈদেও পর্যটকের তেমন সমাগম হয়নি। এবার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। বিপুল পর্যটকের কারণে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টে অগ্রিম রুম বুকিং বন্ধ করে দিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

পর্যটন ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় পর্যটকরা কম এসেছেন। পদ্মা সেতু চালুর পর অনেকে কুয়াকাটা ও সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার টানা ছুটিতে লাখো পর্যটক কক্সবাজারমুখী হয়েছেন।

গতকাল সরেজমিনে দেখা গিয়েছে, হোটেল-মোটেল, কটেজ জোন ও ডলফিন মোড়ে মানুষ আর মানুষ। স্থানীয়রা নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে যেতে টমটম ও অটোরিকশা পর্যন্ত পাচ্ছে না। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। বালিয়াড়িতে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরছেন অনেকে। ঘোড়ার পিঠে বসে ছবি তুলে আনন্দে মেতেছেন। কেউ কেউ ওয়াটার বাইক ও সাগরের নোনাজলে গা ভাসিয়েছেন, সমুদ্রের ঢেউয়ে গোসলে নেমেছেন। আবার খুব ভোরে কক্সবাজারে চলে আসায় হোটেলে উঠতে না পেরে সমুদ্রসৈকতে বসে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, সমুদ্রসৈকত ছাড়াও মেরিন ড্রাইভ ধরে ইনানী, হিমছড়ি ও দরিয়ানগর সৈকতে ছুটে যাচ্ছেন পর্যটকরা। এছাড়া রামু বৌদ্ধবিহার, চকরিয়ার বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক ও নিভৃতে নিসর্গ পার্ক এবং শৈলদ্বীপ মহেশখালীতেও পর্যটকদের সমাগম ঘটেছে।

জেলা শহর ও মেরিন ড্রাইভ সড়কে পাঁচশর মতো হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজে ১ লাখ ৭০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার। তিনি বলেন, তারকামান ও মাঝারি হোটেলগুলোর প্রায় সব কক্ষ ভাড়া হয়ে গিয়েছে। ছোটখাটো রিসোর্ট ও কটেজগুলোয় যেসব কক্ষ আছে তা-ও বৃহস্পতি থেকে রোববার পর্যন্ত বুকিং হয়ে আছে। এজন্য আগাম বুকিং বন্ধ। টানা ছুটিতে প্রায় দুই লাখ পর্যটকের আগমন ঘটেছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার চৌধুরী মিজানুজ্জামান বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে। অতিরিক্ত টহল বাড়ানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পর্যটককে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো ও সেবা নিশ্চিতে অংশীজনদের সমন্বয়ে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া সার্বক্ষণিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিচ কর্মীরা মাঠে রয়েছেন। পর্যটকদের হয়রানির অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।