বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগে এক মাসে ১১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মাসের প্রথম ২৫ দিনে তাদের মৃত্যু হয়। গতকাল বিকালে হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শেবাচিমের বাইরে বিভাগের অন্যান্য সরকারি হাসপাতালগুলোয় জানুয়ারি মাসে আরো চার রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি বছরের ১-২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ৫ হাজার ২৮৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুর অধিকাংশই ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ছিল।’ 

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত জানুয়ারিতে শেবাচিম হাসপাতালের বাইরে ছয় জেলা সদরের হাসপাতালসহ ৪২ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে ৫ হাজার ১৪৪ জন। এদের চারজনের মৃত্যু হয়েছে। 

শেবাচিমের শিশু ওয়ার্ডের সেবিকারা জানান, ভর্তি হওয়া শিশুর অধিকাংশই ঠাণ্ডাজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে এসেছে। ফলে হাসপাতালে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। তাই মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। 

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘শীত মৌসুমে কুয়াশায় মিশে থাকা ধূলিকণা ফুসফুসে প্রবেশ করে। তাই আগের চেয়ে এ বছর বেশি মানুষ ফুসফুসের সমস্যা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে আসছে। এ কারণে বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরে বের হতে হবে। শিশুর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার পাশাপাশি গরম কাপড় ও মাস্ক পরাতে হবে।’