চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার চিনকির আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬২ সালে। ওই সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পুরনো রোডের চিনকির আস্তানা এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। তবে ভবনটি এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। এরই মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান। ফলে স্কুল কর্তৃক নির্ধারিত বেতনও অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার দিতে পারে না। বিদ্যালয়ে দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি ভেঙে নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল কালাম মজুমদার বলেন, ‘বাধ্য হয়ে প্রায় ৬৩ বছরের পুরনো ভবনে শিক্ষার্থীদের গ্রুপ ক্লাস করানো হচ্ছে। পুরনো ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে ক্লাস করতে পারতেন।’
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯৯ সালে বিদ্যালয়টির স্বীকৃতি মেলে। এমপিওভুক্ত হয় ২০০১ সালে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি চার তলা ভবন রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় ১৯৬২ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বাধ্য হয়ে পাঠদান করানো হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৬৫৫। এর মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ১৮৬, সপ্তমে ১৩২, অষ্টমে ১৪৩, নবমে ১০৯ ও দশম শ্রেণীতে ৮৫ শিক্ষার্থী রয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক রয়েছেন ১০ ও নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক আটজন। ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৬২ জন অংশগ্রহণ করে ৬১ জন পাস করে। ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি উপজেলায় সপ্তম স্থানে রয়েছে।
জানতে চাইলে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের আস্থার ঠিকানা চিনকির আস্তানা উচ্চ বিদ্যালয়। তাই প্রতি বছর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের স্থানে নতুন একটি ভবন প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










