পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘ঢাকার চারপাশের নদী দূষণমুক্ত করতে শিল্প মালিকদের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারখানার দূষিত পানি খাল বা নদীতে যেন না পড়ে সেজন্য ইটিপি স্থাপন করা জরুরি। দেশের সম্পদ সৃষ্টি করা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব। দেশে আরো কলকারখানা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও খেয়াল রাখা জরুরি। সমন্বিতভাবে কোনো কাজ না করলে তা টেকসই হয় না।’
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদী এবং নদী-সংযুক্ত খালগুলোয় পতিত শিল্প, পয়োবর্জ্য ও অন্যান্য বর্জ্যজনিত দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অংশীজনের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
দেশের শীর্ষ শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। এর জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি বলেন, ‘কেন্দ্রীয়ভাবে ইটিপি করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যায়ভাবে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করলে সেটা কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না। ইটিপিতে ব্যবহৃত কেমিক্যাল আমদানিতে শুল্ক কমানো বা শূন্যে নামিয়ে আনতে চেষ্টা করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বুড়িগঙ্গাকে টেমস নদীতে রূপান্তর করা। সবাই মিলে কাজ করলে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ বা শীতলক্ষ্যাকে লন্ডনের টেমস নদীর মতো করে গড়ে তোলা সম্ভব। সেজন্য বুড়িগঙ্গার পানি দূষণমুক্ত করার পাশাপাশি তুরাগের উজানের নদী দূষণ রোধেও কাজ করা হবে। গাবতলী ও আশুলিয়ায় নদীর ওপর ঝুলন্ত ব্রিজ তৈরি করা হবে। পর্যটকদের বিনোদনের জন্য জাহাজ পরিচালনা করা হবে।’
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সভায় বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে একটি কেন্দ্রীয় সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।










