বাগেরহাটের মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভের সময় পুলিশ ও ইপিজেডের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৫ মার্চ) মোংলা ইপিজেডের গেটে এ ঘটনা ঘটে। এতে সংবাদকর্মীসহ অন্তত ৩০ শ্রমিক আহত হয়েছেন।
শ্রমিক ও পুলিশ জানায়, শ্রমিক ছাটাই ও ন্যায্য পাওনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সকাল থেকে মোংলা ইপিজেড মূলফটকের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় একজন সিকিউরিটি গার্ডে এসে ছবি তুলতে গেলে প্রতিবাদ করেন শ্রমিকরা। প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিকদের মারধর শুরু করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। খবর পেয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নারায়ণ চন্দ্র পাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হাবিবুর রহমান, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মুশফিকুর রহমান তুষার, মোংলা থানা অফিসার ইনচার্জ কে এম আজিজুল ইসলাম ও বেপজা কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করে।পরে পর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ সময় কমপক্ষে ৩০ জন শ্রমিক ও পুলিশ আহত হন।
আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিককে জোর করে কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে চাকরি থেকে অবৈধভাবে ছাঁটাই করে দেয়া হয়। ছাটাইয়ের আগে তিনটা বেসিক (তিন মাসের বেতন) ও দুইটা বোনাস পরিশোধের কথা থাকলেও মালিক পক্ষ তা না করে ছাঁটাই করলে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ জানায়। এতে বেপজার সিকিউরিটি সদস্যরা শ্রমিকদের মারধর করে বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
শ্রমিক বায়েজিদ বলেন, ‘আট মাস ধরে এ কোম্পানিতে রয়েছি। আগে কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদের হঠাৎ করে কারখানা থেকে বের করে দিয়েছে, এখন কি করবো সামনে ঈদ। আমাদের সঙ্গে অবিচার করছে কারখানার মালিক।’
বাগেরহাট জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. রাসেলুর রহমান বলেন, মোংলা ইপিজেড কোম্পানি সকল আইন মেনেই শ্রমিকদের ছাঁটাই করেছে। শ্রমিকরা তাদের তা মানতে নারাজ। এ নিয়ে সংঘর্ষ হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা মূল ফটক ছেড়ে চলে গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
মোংলা ইপিজেডের ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃপক্ষের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।










