বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গাজীপুরের ফারদার ফ্যাশনস লিমিটেডের শ্রমিকরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মোগরখালে অবস্থিত কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন তারা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত মাসের বেতন এখনো পরিশোধ করা হয়নি। মালিকপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। বলা হয়েছিল, গত মাসের বেতন শিগগির পরিশোধ করা হবে। তবে এখনো বেতন পাননি। বেতনের দাবিতে গত চারদিন ধরে তারা আন্দোলন করে আসছেন। গতকাল এসে দেখেন কারখানায় তালা ঝোলানো, ঘোষণা এসেছে লে-অফের।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পরিদর্শক মো. ফারুক উল আলম বলেন, ‘চারদিন ধরে শ্রমিকরা কারখানায় কর্মবিরতি করে আসছিলেন। গতকাল মালিক পক্ষ সাময়িকভাবে নিট ও ওভেন শাখা বন্ধ ঘোষণা করেছে। শ্রমিকরা সকালে কারখানায় এসে নোটিস দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। পরে আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা কারখানার সামনে চলে যান।’

কারখানায় ঝোলানো নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, কারখানা কর্তৃপক্ষ বায়িং হাউজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ সংগ্রহ করে শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে আসছে। আগামী মাসে নিট ও ওভেন শাখায় শ্রমিকদের দিয়ে করানোর মতো কোনো কাজের অর্ডার হাতে নেই। এছাড়া শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে পূর্ণ মজুরি দেয়া সম্ভব নয়। বিষয়টি মালিকের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত। তাই কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১২ ধারা মোতাবেক ১২ জুলাই থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত সাময়িকভাবে নিট ও ওভেন শাখা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কাজ বন্ধকালে সংশ্লিষ্ট শ্রমিক-কর্মচারীদের বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৬ ধারার বিধান মোতাবেক লে-অফ ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। এ সময়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের কারখানায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কারখানার সোয়েটার শাখা ও নিরাপত্তা কর্মীরা লে-অফের আওতার বাইরে থাকবে।