গাজীপুরের আশরাফ টেক্সটাইল মিলস হাইস্কুলে সাক্ষরতা ও জেন্ডার সমতাবিষয়ক শিক্ষা সহযোগিতা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘বাটা শু ফাউন্ডেশন’ এর অর্থায়নে এবং ‘রুম টু রিড বাংলাদেশ’ এর পরিচালনায় এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিক স্তরের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য শিশুবান্ধব শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার স্থাপন, লেভেলভিত্তিক গল্পের বই সরবরাহ ও শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি ‘বুক ক্যাপ্টেন’ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও বাড়িতে পড়ার পরিবেশ তৈরিতে পড়া-খেলা উৎসব, দেয়াল পত্রিকা ও অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করা হবে। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হওয়ার দক্ষতা তৈরিতে ‘জীবন-দক্ষতা ক্লাব’ গঠন করা হবে। এ জন্য ক্লাব রুমে শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক উপকরণ, শিক্ষক সহায়িকা ও শিক্ষার্থী ওয়ার্কবুক সরবরাহ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জীবন-দক্ষতা ক্লাব রুম উদ্বোধন, উপকরণ বিতরণ এবং প্রকল্পের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহিদা নাজনীন।

FB_IMG_1786613407756

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাটা চিলড্রেনস প্রোগ্রাম লিড (এপেক) ও এইচআর ম্যানেজার রাজিয়া সুলতানা, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং রুম টু রিড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাখী সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মামুন তালুকদার।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের পঠনদক্ষতা ও পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কার্যক্রম বিষয়ে উপস্থাপনা করেন রুম টু রিড বাংলাদেশের লিটারেসি ডিরেক্টর মো. মাজহারুল করিম। অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবন-দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন রুম টু রিড বাংলাদেশের জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি পোর্টফোলিও ম্যানেজার ইফ্ফাত জেরীণ।

রাজিয়া সুলতানা বলেন, এ যৌথ প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে পড়ার অভ্যাস তৈরি এবং তাদের স্বাধীন পাঠক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় জীবন-দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা হবে।

রাখী সরকার বলেন, শিক্ষা শুধু পরীক্ষা পাস বা সনদ অর্জনের বিষয় নয়; বরং চিন্তা করা, সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া। বাটা শু ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত এ কর্মসূচি শিশুদের মধ্যে পড়ার আনন্দ ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি জীবনব্যাপী দক্ষতা, নেতৃত্ব ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. জাহিদা নাজনীন বলেন, প্রাথমিক স্তরে পড়ার অভ্যাস এবং মাধ্যমিক স্তরে জীবন-দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে। পাঠাভ্যাস তৈরিতে ‘বুক ক্যাপ্টেন’ ও সচেতন অভিভাবকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।