গতকাল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০৬ ফ্লাইটে মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে নিহত মামুনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

আল মামুনের মরদেহ গ্রহণ শেষে আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দেয়ার বিষয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল দেশটি সফরে যাচ্ছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বুধবার মালয়েশিয়া যাচ্ছি। দেশটির মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে আলোচনার পরে কী হবে, সেটা সবাইকে জানানো হবে। আমরা চেষ্টা করব শ্রমবাজার দ্রুত খোলার জন্য।’

জানা যায়, গত ৮ মার্চ ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের আল-খারজ এলাকায় আঘাত হানলে মামুন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন। তার শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। রিয়াদে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে তিনি মারা যান। নিহত মামুনের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে।

মরদেহ হস্তান্তরের সময় মন্ত্রী নিহত কর্মীর পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি দাফনের জন্য পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।

শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগের বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কোনো সিন্ডিকেট বুঝি না, আমরা সবসময় সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার চেষ্টা করি। আমরা যাচ্ছি, বিষয়টা নিয়ে আলোচনা হবে। দোয়া করেন, যাতে আমরা মুক্ত থাকতে পারি।

ব্রিফিংকালে মন্ত্রী আরো বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এখন পর্যন্ত সাতজনের মৃত্যুর খবর আমাদের কাছে এসেছে। এর মধ্যে চারজনের মরদেহ আমরা গ্রহণ করেছি। একজনের মরদেহ পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, নিহতের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফন কার্যের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে দেয়া হয়েছে।