নভেল করোনাভাইরাসের কারণে নিত্যপণ্য বাদে প্রায় সব বাজারেই মন্দাভাব বিরাজ করছে। তবে এমন পরিস্থিতির মাঝেও জমজমাট বগুড়ার সোনাতলার বাঁশের হাট। স্থানীয়রা জানিয়েছে, এবার গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে। তাই অনেকে ঘরবাড়ি মেরামত করছে। এ কারণেই খুুঁটিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরিতে বাঁশের চাহিদা বেড়েছে। বাঁশ বিক্রিও হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে।

জানা গেছে, জেলা সদর থেকে প্রায় ৩১ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত সোনাতলা উপজেলা। ওই উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যমুনা ও বাঙালী নদী। এই দুই নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও আশপাশের এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার শ্রমজীবী পরিবার বসবাস করে। সঠিক সময়ে মেরামত না করলে বর্ষা মৌসুমে এসব পরিবারের ভোগান্তি বাড়ে। এবার আগেভাগে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পরিবারগুলো তাদের বসতঘর মেরামত শুরু করেছে। এছাড়া অনেকে অবস্থাসম্পন্ন পরিবারও তাদের টিনের চালা মেরামত করছে। এতে বেড়েছে বাঁশের চাহিদা।

সোনাতলা উপজেলার জন্তিয়ারপাড়া চরের বাসিন্দা শাহাদত হোসেন জানান, কয়েক দিনে ধরে বেশ বাতাস হচ্ছে। ঘন ঘন ঝড় উঠছে। সে কারণে ঘরে নতুন করে বাঁশ দিয়ে মজবুত করার চেষ্টা করছি। হাটে এখন প্রতিটি বাঁশ আকার ভেদে ২০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য সময় এই বাঁশ বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়।

সোনাতলা উপজেলার খাবুলিয়াচরের বাসিন্দা শামছুল আলম, মহব্বতেরপাড়া চরের এশারত আলী, পূর্ব তেকানী চরের তুহিন মিয়া জানান, ঝড়-বৃষ্টির মৌসুম চলছে। এই সময় মাঝেমধ্যেই ঝড়-বৃষ্টি সংঘটিত হয়। হাতে কাজও নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে মাথা গুঁজে থাকতে বসতবাড়ি মেরামত করছি। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় টাকা ধার নিয়ে বাঁশ কিনতে হচ্ছে।

সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর আলম জানান, সরকার কর্মহীন মানুষের খাবারের ব্যবস্থা চালু রেখেছে। তবে তাদের ঘরবাড়ি মেরামতে এখনো কোনো বরাদ্দ আসেনি।

সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা ইউপির চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান শান্ত ও তেকানী ইউপির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শামছুল হক জানান, এ দুই ইউনিয়নে প্রচুর শ্রমজীবী মানুষ বসবাস করে। করোনায় দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ ঘরবন্দি হয়ে বাড়িতে অবস্থান করছে। এর মধ্যে ঘন ঘন ঝড় আঘাত হানার কারণে অনেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা ধারদেনা করে ঘরবাড়ি মেরামত করছেন।