নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি দেশীয় পণ্যের প্রসার ও বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজধানীর গুলশানে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ব্র্যাক ব্যাংকর আয়োজনে গুলশানের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

মেলার উদ্বোধন করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান। এ সময় ছিলেন ব্যাংকের ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর লীলা রশিদ, আনিতা গাজী রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এ মেলায় দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত ৮৮ জন নারী উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। মেলায় অংশগ্রহণের জন্য উদ্যোক্তাদের স্টল বরাদ্দসহ সব ব্যয়ভার বহন করছে ব্র্যাক ব্যাংক।

এতে বুটিক, হাতে সেলাই করা পোশাক, কারুশিল্প, জামদানি ও মসলিন, চামড়াজাত পণ্য, অর্গানিক স্কিনকেয়ার এবং বাঁশ-বেতের তৈরি নানা ধরনের পণ্যের সমাহার রয়েছে। কিউআর পেমেন্টে কেনাকাটা করলে ক্রেতারা পাবেন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ ছাড়। এছাড়া মেলায় আগতদের জন্য রাখা হয়েছে ইফতার ও ডিনার ফুড কোর্টসহ অন্যান্য স্টল।

মেলায় অংশ নেয়া 'চিত্রাঙ্গদা' স্টলের স্বত্বাধিকারী খাদিজা বলেন, আমাদের ফোকাসড পণ্য হচ্ছে ডিজাইনার ব্লাউজ, যেগুলো আমি নিজেই ডিজাইন করে থাকি। পাশাপাশি শাড়ি ও কুর্তি রয়েছে। সবকিছুই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। তারা উদ্যোক্তা মেলায় আমাদের স্টলে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।

যশোর থেকে আসা উদ্যোক্তা মুসলিমা আক্তার মৌ বলেন, আমরা মূলত স্টিচ নিয়ে কাজ করছি এবং গ্রামীণ নারীদের এগিয়ে রাখাই আমাদের প্রচেষ্টা। দেশীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে তৈরি করা শাড়ি, টু-পিস ও টাই-ডাই স্কার্ফ নিয়ে আমরা মেলায় এসেছি।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, এ মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যেমন দেশীয় পণ্যের প্রচারের সুযোগ পাচ্ছেন, তেমনি আর্থিকভাবেও উপকৃত হচ্ছেন। বিশেষ করে ঈদের আগে এ আয়োজন তাদের বিক্রি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে। আমরা শুধুমাত্র অর্থায়ন করি না, এর বাইরে আমরা মার্কেটপ্লেস তৈরি করতে সহযোগিতা করি, উদ্যোক্তাদের নানাভাবে পরামর্শ দিয়ে থাকি। এর মাধ্যমে একজন উদ্যোক্তার সফলতায় ভূমিকা রাখি। পুরো ভ্যালু চেইনের ভিতরে আমাদের উপস্থিতি থাকে, এটা খুবই সিগনিফিকেন্ট অ্যান্ড ইমপ্যাক্টফুল।

ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই বিভাগের প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, গত কয়েক বছরে এ মেলা একটা সিগনেচার ইভেন্টে পরিণত হয়েছে। এ বছর মেলার পরিসর আমরা বাড়িয়েছি। প্রায় ১ হাজার ৯০০ উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নেয়ার জন্য চেষ্টা করেছে, তার মধ্যে নির্বাচন করে ৮৮ জন নারী উদ্যোক্তাকে স্টল দেয়া হয়েছে এবারের মেলায়। গত বছর মেলায় ৭ হাজার দর্শনার্থী এবং ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি হয়েছিল। এ বছরের মেলা ৩ দিন করা হয়েছে এবং গতবারের চেয়ে বেশি সাড়া পাব আশা করছি।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান বলেন, আজ আমরা এখানে সমবেত হয়েছি ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের ভিশন ও আদর্শকে সামনে রেখে, যার অনুপ্রেরণায় ব্র্যাক গড়ে উঠেছে। নারীর ক্ষমতায়ন ছিল তার দর্শনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। ব্র্যাকের প্রতিটি কাজের মূলে রয়েছে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা বা ক্ষমতায়ন কেবল কোনো আনুষ্ঠানিকতা বা ‘চেক দ্য বক্স’ জাতীয় বিষয় নয়; বরং এটি ব্র্যাকের ডিএনএ এবং আমাদের মূল আদর্শের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের লক্ষ্য কেবল ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকা নয়; বরং এ মেলা এবং আমাদের সেবাকে দেশের প্রতিটি জেলা ও মফস্বল শহরে ছড়িয়ে দেয়া, যাতে তৃণমূল পর্যায়ের নারী উদ্যোক্তারাও এর সুফল পান।