চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেলের দক্ষিণ টিউবের পূর্তকাজ সমাপ্তি উদযাপন করা হয় ২৬ নভেম্বর। জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে টানেল দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে যানবাহন চলাচল শুরুর কথা ছিল। সাড়ে ৪ শতাংশ কাজ বাকি থাকায় টানেল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে কিছুটা সময় লাগছে। এক্ষেত্রে সার্ভিস এরিয়ার কাজ চলমান রেখেই টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচল উদ্বোধন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২ জানুয়ারি পর্যন্ত টানেলের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে সাড়ে ৯৫ শতাংশ। প্রতি মাসে দেড় শতাংশ হারে প্রকল্পটির বর্তমান পূর্ত ও আর্থিক কাজের অগ্রগতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যদিও সর্বশেষ ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ হয়েছে ১ শতাংশ। ফলে প্রকল্পের শেষ দিকে এসে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কাজের অগ্রগতি কমে যাওয়ায় উদ্বোধন কিংবা বাণিজ্যিকভাবে টানেল উন্মুক্ত করতে কিছুটা সময় বিলম্ব হচ্ছে। যদিও প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্ভিস এরিয়ার কাজ চলমান রয়েছে। মূল পূর্তকাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় সার্ভিস এরিয়ার কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই যানবাহন চলাচলের জন্য টানেল উদ্বোধন করবে সেতু বিভাগ।

সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় টিউবের ইলেট্রো মেকানিক্যাল ইনস্টলেশন ওয়ার্কের কাজ এখনো চলমান। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ হয়েছে ৮৫ শতাংশ। দুটি টিউবের মধ্যবর্তী সংযোগকারী প্যাসেজ বা সংযোগপথের পূর্তকাজ শেষ হলেও বর্তমানে ফায়ারপ্রুপ ডোর ও পিইউ গ্রাউটিংয়ের কাজ চলমান। এছাড়া টানেলের বাইরের অংশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মোট ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ চলমান। এখনো প্রকল্পের ১৪ দশমিক শূন্য ৩৫ একর ভূমি অধিগ্রহণ/হস্তান্তর কার্যক্রম জেলা প্রশাসনের কার্যালয়/ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন। অন্যদিকে টানেলের মূল টিউবের ভৌতকাজ শেষ হলেও সার্ভিস এরিয়ার বাংলো, মোটেল মেস, হেলথ সেন্টার, কনভেনশন সেন্টার, দুটি সেতু, ড্রেনেজ, অভ্যন্তরীণ রোডসহ বেশকিছু কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্ক্যানারসহ বেশ কয়েকটি কাজের পরিকল্পনা না থাকলেও নতুন করে এসব কাজ সংযুক্ত করা হচ্ছে প্রকল্পে। এজন্য প্রকল্পের একটি সংশোধনীসহ ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে চীন থেকে আনা চারটি স্ক্যানার মেশিন টানেলের উভয় প্রান্তে বসানোর কাজ চলমান রয়েছে। যে কারণে চলতি বছরের শুরুতে টানেলটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার পরিকল্পনা থাকলেও সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সেতু বিভাগের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা টানেল সাইট পরিদর্শন শেষে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের ঘোষণা আসতে পারে।

এদিকে টানেল দিয়ে যানবাহন চলাচলে টোল হারের খসড়া চূড়ান্ত করেছে সেতু বিভাগ। এটি এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ২৬ নভেম্বর টানেল টিউবের পূর্তকাজ সমাপ্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে টানেলের সবচেয়ে জটিল টানেল টিউবের শতভাগ কাজ পরিসমাপ্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে টানেলকে চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হিসেবে অবহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, শুরুতে স্ক্যানারসহ বেশকিছু কাজ ছিল না প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা বা ডিপিপিতে।