অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে মানুষের মাঝে সংশয় তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ মে) রাজধানীর খামারবাড়ি বার্ক অডিটোরিয়ামে ইস্টার পুনর্মিলনী ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার পরিচয় দিতে পারছে কিনা তা নিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের মধ্যে সংশয় তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন. স্বৈরাচারের শাসনকালে সাজিদুল ইসলাম সুমনসহ অনেককে গুম করা হয়েছে। ২০১৪ সালে গুম হওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত হয়েছিল মায়ের ডাক নামে একটি সংগঠন। অত্যন্ত আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে সুমনের বোনের বাসায় গতকাল অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এখন তারা বলছে তারা নাকি সুমন সম্পর্কে জানত না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম যে প্রশাসন সুমন সম্পর্কে জানত না, কিন্তু পলাতক স্বৈরাচারের একজন রাষ্ট্রপতি বিমানবন্দর দিয়ে চলে গেছেন দেশ ছেড়ে। যেভাবে চলে গিয়েছে সেটাকে যদি মিলাই, দেখব যে ৫ আগস্ট আরেকজন চলে গিয়েছেন, তার মতোই তিনি চলে গিয়েছেন। ঘটনাটি গতকালের। বলা হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার নাকি এটা জানে না। সবাই প্রশ্ন করছে অন্তর্বর্তী সরকার জানেটা কি? সাথে এও অভিযোগ উঠেছে সংস্কারের নামে অন্তর্বর্তী সরকার সময় নিয়ে পলাতক স্বৈরাচারদের দেশত্যাগের সময় করে দিচ্ছে। অপরদিকে নানা ইস্যু সৃষ্টি করে স্বৈরাচারবিরোধী দলগুলোর ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর ক্ষেত্র তৈরি করতে চাইছে। এ বিষয়গুলো ঘুরে ফিরে মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে।

সংবিধান সংশোধন এখন সময়ের দাবি উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থেকে পলাতক স্বৈরাচাররা যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিল, তাদের শাসনকালে দেশের জনগণের যে কাঙ্ক্ষিত আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। বরং তারা নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে নানা ধরনের অপকর্মে যুক্ত হয়েছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা দেশের সংবিধানকে দলীয় সংবিধানে পরিণত করেছিল। এমন বাস্তবতায় বিএনপি মনে করে সংবিধানের মূলমন্ত্র অপরিবর্তীত রেখে সংবিধানের সময় উপযোগী সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে বিএনপি তার সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছে। একটি রাষ্ট্রের সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে কিন্তু তাদের নিরাপত্তার কোনো প্রশ্ন ওঠে না। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে কেউই কিন্তু নিরাপদ না। এমনকি দেশের স্বাধীনতাও কিন্তু নিরাপদ না। দেশের রাষ্ট্রের শাসন ও গণতন্ত্র কিন্তু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

তারেক রহমান বলেন, একটি আধুনিক রাষ্ট্র এবং সমাজে দেশের জনগোষ্ঠীকে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু হিসেবে বিবেচনা করা কিন্তু একটি বৈষম্য। কারণ আমরা সবাই মিলে কিন্তু দেশ স্বাধীন করেছি। আবার গত দেড় দশকে কিন্তু সব ধর্মের মানুষ মিলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলেছি। একইভাবে ২০২৪ সালে কিন্তু আমরা সবাই মিলে স্বৈরাচার পতন ঘটিয়েছি। দেশটা জনগণের। ফ্যাসিবাদের জননী দেশ ছেড়ে পালানোর পর দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অপার সম্ভাবনা ও সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমাদের এখন গণতান্ত্রিক একটা দেশ গড়ে তুলতে হবে। আর এজন্য এখনই শ্রেষ্ঠ সময়। সুতরাং ভবিষ্যতের কোনো ষড়যন্ত্র যেন বাংলাদেশকে গণতন্ত্র থেকে বিচ্যুত করতে না পারে সেজন্য সবাই ভূমিকা রাখি।