নামের মিল থাকায় ভুলক্রমে হত্যা মামলায় আটক হয়েছিলেন ঢাকা ট্রিবিউনের আলোকচিত্রী মেহেদি হাসান সাগর। তবে আটকের প্রায় ৫ ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাত সাড়ে দশটার দিকে ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়া পান মেহেদি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাকে মুক্তি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি ঢাকা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা ট্রিবিউন কর্তৃপক্ষ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাস্পাস এলাকায় ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলায় ঢাকা ট্রিবিউনের আলোকচিত্রী মেহেদি হাসান সাগরকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মেহেদি সে সময় সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের ছাদখোলা বাসযাত্রার ছবি তোলার জন্য অফিসিয়াল অ্যাসাইনমেন্টে ছিলেন।
এর আগে রাজধানীর কাকরাইল থেকে দিনের বেলা ফটো সাংবাদিক মেহেদিকে গ্রেফতারের তথ্য দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পুলিশের ভাষ্য, মেহেদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলার আসামি।
তবে তার সহকর্মীদের দাবি, যে মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেটির আসামি মুজিব হল শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান সাগর। তবে পুলিশ ধরেছে একই নামের ফটোসাংবাদিক মেহেদিকে যিনি ওই হলের ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। তবে পূর্ণকালীন এই পেশাদার ফটো সাংবাদিক হলে সিট পাওয়ার জন্য একসময় ‘নামেমাত্র হল’ শাখা ছাত্রলীগে নাম লিখিয়েছিলেন।
ঢাকা ট্রিবিউনসহ মেহেদির অন্য সহকর্মীরা বলছেন, মেহেদি জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের পুরোটা সময় দেশী-বিদেশী সংবাদমাধ্যমে ফটো সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের পাশাপাশি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার হয়ে কাজ করেন।
মামলার এজাহারে দেখা যায়, ১৩৪ নম্বর আসামি হিসেবে ঢাবির পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৭-১৮ সেশনের মেহেদি হাসান সাগরের নাম রয়েছে। সেখানে শেখ মুজিব হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তার পরিচয় দেয়া রয়েছে। সাংবাদিক মেহেদি হাসান ছাত্রজীবনের শুরুর দিকে হলে ওঠার প্রয়োজনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হলেও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন না। এজাহারে উল্লেখিত আসামি তারই সহপাঠী।










