মিরসরাইয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল ভোর রাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ বাজারে মুক্তিযোদ্ধা হোটেলের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও গুলিতে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহেদ বিন কামাল ও সাধারণ সম্পাদক সেফায়েত হোসেনসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মেলা গেটে স্থাপিত ব্যানার, ফেস্টুন ছেঁড়াসহ আশপাশের কয়েকটি দোকানেও ভাংচুর চালায়। ভাংচুর করা হয় ছয়টি মোটরসাইকেল। সংঘর্ষে আহত অন্যরা হলেন আব্দুর রহমান (১৮), সাইফুদ্দিন রিফাত (১৭), রিয়াজ উদ্দিন (৩৬), আমজাদ হোসেন (২১), রাহুল বড়ুয়া (২৪), মো. তারেক হোসেন (২৬), মিরাজ আকবর (২০), সরোয়ার হোসেন (২২), কাউসার আহমেদ (৩০)। আহতরা সবাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। এদের মধ্যে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি শাহেদ বিন কামালসহ সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর মিরসরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে ১০ দিনব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুরু হয়। মেলার শেষদিন ছিল শনিবার। মেলা শেষে ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এবং জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন টিটুর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলা আয়োজক কমিটির সমন্বয়ক ও জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন, ‘জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি করতে না পারায় শেষ দিকে এসে হামলা করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে হামলার সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন টিটুর অনুসারীরা জড়িত বলে জানিয়েছেন। হামলার শিকার সবাই ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী।’
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইনুদ্দিন টিটু বলেন, ‘শনিবার রাতে জোরারগঞ্জ বাজারের মুক্তিযোদ্ধা হোটেলের সামনে আমার কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী ছেলেদের ওপর প্রথমে হামলা করে চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের অনুসারীরা। পরে প্রতিরোধ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।










