মেলার শুরুতেই ছুটির দিনে বইমেলার চিরচেনা জৌলুস থাকলেও সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে পাঠক-দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক অনেক কম। ইফতারের আগে ক্রেতা-দর্শনার্থীর চাপ কম ছিল বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থাসংশ্লিষ্টরা। তবে ভিড় কম থাকলেও যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে বই কেনার আগ্রহ আর নতুন বইয়ের ঘ্রাণে অবগাহন করার তৃপ্তি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সরজমিনে বইমেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলার তিনদিন পেরোলেও বেশকিছু প্রকাশনী এখনো তাদের স্টলের সাজসজ্জা এবং বই সাজানোর কাজ পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। অনেক স্টলে এখনো রঙের কাজ বা দেয়ালের আলমারিতে বই গোছানোর শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা চলছে। কর্মীদের বইয়ের তাক পরিষ্কার করা এবং নতুন আসা বইগুলো থরে থরে সাজাতে দেখা গেছে।

দর্শনার্থী কম থাকার সুবাদে প্রকৃত পাঠকদের ও ক্রেতাদের জন্য তা যেন ছিল আশীর্বাদ। পাঠকদের অনেক সময় নিয়ে বই উল্টেপাল্টে দেখতে দেখা গেছে। বিশেষ করে সৃজনশীল বইয়ের স্টলগুলোতে পাঠকরা একাগ্রচিত্তে বইয়ের সূচিপত্র ও সারাংশ পড়ছেন—এমন চিত্র ছিল আজ মেলার সাধারণ দৃশ্য।

​কেরানীগঞ্জ থেকে আসা প্রবাসী মাহবুব তার সপ্তম শ্রেণী পড়ুয়া মেয়ে, ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মেলা ঘুরে দেখছিলেন। তিনি জানান, রোজার কারণে মেলায় স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য কিছুটা কম মনে হয়েছে। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এসেছি। বাচ্চারা পছন্দমতো বই কিনেছে। ছেলে একটা গল্পের বই এবং আরেকটি ড্রয়িংয়ের বই কিনেছে। প্রবাসের ব্যস্ততা ফেলে মেলায় এসে নিজের শিকড়কে অনুভব করতে পারছেন বলে জানান তিনি।

নাজমুল হোসেন নামের আরেকজন প্রবাসী বলেন, ‘ছুটিতে দেশে এসেছি। বইমেলা ঠিক এ সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। না এসে কি পারা যায়। দুটি বই কিনেছি, আরো কয়েকটি বই কিনব।’

অন্যপ্রকাশ, আলোঘর এবং শিশু সাহিত্য বইঘর-এর প্রকাশনা কর্মীরা জানান, প্রথম দুইদিন ছুটির দিনে পাঠকদের যে ভিড় ছিল, আজ তার দেখা নেই। আলোঘর-এর কর্মী নাঈম এবং শিশু সাহিত্য বইঘর-এর কর্মী প্রতীক মণ্ডল বিকালে বলেন, ‘রোজার কারণে এবং সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় দর্শনার্থী অনেক কম। তবে ইফতারের পর দর্শনার্থী কিছুটা বাড়তে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।’

​মেলার আয়োজক বাংলা একাডেমির তথ্যমতে, গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৪২টি। বিকাল পর্যন্ত চার বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ পর্যন্ত এবারের মেলায় আসা মোট নতুন বইয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬টিতে।

কয়েকজন প্রকাশক আশা প্রকাশ করে জানান, দিন যত গড়াবে, বিশেষ করে রোজার শেষ দিকে বইপ্রেমীদের পদচারণায় মেলা মুখরিত হবে।

​ঢাকার বাইরে থেকেও বইপ্রেমীরা ছুটে আসছেন মেলায়। বরিশাল থেকে দুই ছেলে তাহিয়ান ও নাহিয়ান এবং স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় এসেছেন মামুন। তিনি বলেন, ডাক্তার দেখাতে ঢাকা আসা। তাই ভাবলাম ঈদের আগে মেলাটা ঘুরে যাই।”তার দুই ছেলের জন্য গল্পে শিখি শব্দ গঠন ও বাচ্চা ভূতের গল্প বই দুটো কিনেছেন।

নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছেন দুই বোন ফাতেমা ও হালিমা। ফাতেমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাই বইমেলা তার জন্য নতুন নয়। তবে তার ছোট বোন হালিমা এবারই প্রথম মেলায় এসেছেন। তাই উচ্ছ্বসিত হালিমা বণিক বার্তাকে জানান, একটি বই কিনেছেন, আরো কিছু বই কেনার ইচ্ছা আছে। এছাড়া ফরিদপুর থেকে আসা কলেজের প্রভাষক ইমরান তার চার বছরের সন্তান আয়াশের জন্য ‘খুকি ও কাঠবিড়ালি’ এবং ‘ছোটদের প্রত্নতত্ত্ব’ নামে দুটি বই কিনেছেন।

​সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস হলেও মেলার সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য ছিল খুদে পাঠকদের আনাগোনা। অভিভাবকরা সন্তানদের হাত ধরে স্টল থেকে স্টলে ঘুরছেন। রঙিন প্রচ্ছদের বই, বিশেষ করে কমিকস এবং শিক্ষামূলক বইয়ের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ বেশি দেখা গেছে।

ধানমন্ডি থেকে আসা দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আমির হামজা মামার সঙ্গে মেলায় আসতে পেরে খুব আনন্দিত বলে জানায়।