সাধারণ ছুটি না বাড়ালেও নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবধরনের জমায়েত নিষিদ্ধই রেখেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই নেত্রকোনায় শিশুদের নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। আবার সেই খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষেও জড়িয়েছে দুদল গ্রামবাসী। এতে আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন।

গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার পূর্বধলা উপজেলার কাপাসিয়া বাজারে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এক পর্যায়ে সড়ক অবরোধ, দোকানপাট ও মসজিদ ভাঙ্চুরের মতোও ঘটনা ঘটেছে।

খবর পেয়ে পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ এ সময় ধোবাউড়া উপজেলার ফরিদ হোসেন বাবলু ও আব্দুল জলিল নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকালে পূর্বধলা উপজেলার কাপাসিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে পূর্বধলা উপজেলার বোয়ালিয়াকান্দা ও ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া গ্রামের সাথে শিশুদের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। খেলা চলাকালীন সময় একাধিক ফাউল করাকে কেন্দ্র দু’পক্ষের খেলোয়ারদের মাঝে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। দুই পক্ষের খেলোয়ারদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে বোয়ালিয়াকান্দা গ্রামের পাঁচ খেলোয়ার আহত হয়।

এই উত্তেজনা মুহূর্তেই খেলার মাঠের বাইরে সমর্থক গ্রামবাসীর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মাঝে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনার প্রতিবাদে বোয়ালিকান্দা ও আশপাশের গ্রামের মানুষ উত্তেজিত হয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পূর্বধলা কাপাসিয়া সড়কের কাপাসিয়া নামক স্থানে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে ধোবাউড়ার সাথে পূর্বধলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে যায়।

এ খবরে বুধবার সকালে পোড়াকান্দুলিয়া গ্রামের লোকজন গ্রামের দোলোয়ার, বাবলু, মিয়া হোসেনের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে কাপাসিয়া ব্রিজ অতিক্রম করে বাজারের বেশ কয়েকটি দোকানপাটে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় উভয়পক্ষ  আবারো সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে জালাল মিয়া (৩৮), সিদ্দিক মিয়া (৩৪), সোহেল (২৩) মেহেদী হাছান (১৭), ইদ্রিছসহ (২৩) উভয়পক্ষের প্রায় ২০ জন আহত হন।

স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে ধোবাউড়া ও পূর্বধলা হাসপাতালে ভর্তি করে।এ ঘটনার জের ধরে বুধবার সকাল থেকেই কংশ নদীর দুই পাড়ের দুই উপজেলার দুই গ্রামের মানুষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

কাপাসিয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান সংঘর্ষের সময় পোড়াকান্দুলিয়া গ্রামের উত্তেজিত লোকজন কাপাসিয়া ঈদগাহ মাঠের মসজিদ ও কাপাসিয়া বাজারের কিছু দোকানপাট ভাঙচুর করে।এ ব্যাপারে কাপাসিয়াবাসী বুধবার সন্ধ্যায় পূর্বধলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিলেও পরে মিমাংসা হবে বলে জানালে তারা অভিযোগ করেননি।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তাওহীদুর রহমান প্রীতি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি।

তিনি বলেন, বুধবার বিকেলে দুই গ্রামবাসীর সাথে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা  করা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি পূর্বধলা ও ধোবাউড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ধোবাউড়া থানার ওসির সাথে আলোচনা করেছেন আজ বৃহস্পতিবার মিমাংসার লক্ষ্যে দুপক্ষকে নিয়ে বসবেন।

করোনাভাইরাসের এই মহামারীর সময়ে সভাসমাবেশ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও দু’গ্রামবাসী খেলার আয়োজন কীভাবে করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি জানান, এটি কোন বড় ধরনের আয়োজন ছিল না ছোট ছোট শিশুরা গ্রামের মাঠে খেলা করছিল। খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর মাঝে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যায়।