পুলিশের হামলার বিচার ও তিন দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে এখনো অবস্থান করছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা না করে সড়ক ছাড়বেন না বলে জানান তারা।

দাবি আদায়ে গতকাল বুধবার দুপুর থেকে চলছে তাদের অবস্থান কর্মসূচি। এর ফলে রাজধানীর ব্যস্ত এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যানজট ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের এলাকাগুলোতেও।

এর আগে গতকাল সকাল ১১টার দিকে তিন দফা দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে লংমার্চ শুরু করেন। মিছিলটি শাঁখারি বাজার, রায়সাহেব বাজার, তাঁতি বাজার, বংশাল মোড় হয়ে গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে এলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। ওই ব্যারিকেড ভেঙে গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে এলে তারা আবারও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। তবে বাধা উপেক্ষা করে সচিবালয়, শিক্ষা ভবন, হাই কোর্ট, মৎস্য ভবনের মোড়ের বাধা উপেক্ষা করে কাকরাইল মসজিদের সামনে আসেন তারা।

পরে মিছিলটি প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে আবারো পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে ৩৮ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এরপর দুপুর ২টার দিকে প্রায় দুইশ শিক্ষার্থী কাকরাইল মোড়ে এসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এতে ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি বাসে এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেন কয়েকশ শিক্ষক-শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে জবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন ছিলেন।

1

বিকাল ৫টার দিকে উপাচার্যের নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যায়।

রাত ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, কিছু একটা ঘটলেই যমুনায় যাওয়ার প্রবণতা সহ্য করা হবে না। এ ক্ষেত্রে সরকার কঠোর হবে। বক্তব্য চলাকালে ভিড় থেকে তথ্য উপদেষ্টাকে লক্ষ্য করে পানির বোতল নিক্ষেপ করা হলে তার মাথায় লাগে। এরপর বক্তব্য বন্ধ করে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

রাত ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের পক্ষে ব্রিফ করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য সচিব সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্তে এসেছি, আমরা কোনোভাবেই এ জায়গা ছেড়ে যাব না। যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তাহলে এর সব দায় উপদেষ্টা ও সরকারকে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ওপর দুপুরে যে হামলা হয়েছে, আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

তিন দফা দাবি হলো— জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করেই অনুমোদন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করা।