সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি ২৩ নাবিককে কিছুদিনের মধ্যেই সুস্থভাবে উদ্ধার সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‌নাবিকদের সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেয়া হচ্ছে আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।’

তিনি বলেন, ‘‌এটা কোনো ছোট ঘটনা নয়, অনেক বড় ঘটনা। কাজেই দিন, তারিখ দিয়ে এর সমাধান সম্ভব না। আমরা বলতে পারি, সম্পূর্ণ ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আশা করছি আমরা নাবিকদের সুস্থভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব।’

ঈদের আগে নাবিকদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও তা সম্ভব হয়নি জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‌আশা করছি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই আমরা সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে আমাদের নৌবিভাগ আন্তর্জাতিক এলাকায় কাজ করে, তারাও খোঁজ-খবর রাখছেন। সার্বিক বিবেচনায় বলছি, পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘‌আমাদের সঙ্গে নাবিকদের যোগাযোগ হচ্ছে। নৌপরিবহন  অধিদপ্তরও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। কথাবার্তা হচ্ছে। তারা ভালো আছে। বিষয়টি অল্প কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হবে। এখন দস্যুদের সঙ্গে আচরণটা কীভাবে হয়, এ ধরনের আলোচনার জন্য কিছু সংগঠন আছে, মানুষ আছে, তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘‌আমরা তো কখনো দস্যুদের মোকাবেলা করিনি। কাজেই আমরা বলতে পারব না, কীভাবে আলোচনা হচ্ছে। যারা দস্যুদের সঙ্গে চলাফেরা করেন, সেই মানুষের মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। এর আগে ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে যখন “‍বাংলার সমৃদ্ধি” জাহাজ আটকে গেল, তখনো এ ধরনের কিছু সাহায্য নিয়ে সমাধান করেছিলাম। বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ট তৎপর ছিলেন। তার সহায়তায় আমরা সেটির দ্রুত সমাধান করতে পেরেছি।’

নৌপথে চাপ আছে, ভোগান্তি নেই: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে ঘরফেরা মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে না। নৌপথে চাপ থাকলেও কোনো ভোগান্তি নেই।

তিনি বলেন, ঈদযাত্রার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাব। কারণ তিনি মাল্টিমোডাল কানেকটিভিটির (বহুমুখী সংযোগ) কথা ১৯৯৬ সালে প্রথম বলেছিলেন। বাংলাদেশে তিনি এ বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করেছেন। আকাশপথ, রেলপথ ও সড়কপথ যা দেখেন, যে পরিমাণ অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে- তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়েই হয়েছে। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে ছিল দক্ষিণাঞ্চল। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলকে যুক্ত করেছে পদ্মা সেতু। একটি পদ্মা সেতু যোগাযোগ ব্যবস্থায় কী ধরনের শৃঙ্খলা আনতে পারে, সেটি আমরা দেখতে পাচ্ছি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নৌপথে ভোগান্তি নেই, চাপ বলা যেতে পারে। মজুচৌধুরীঘাটের আজকের চিত্রের কথা বলি, সেখানে অতিরিক্ত চাপ ছিল, ভোগান্তি ছিল না। যাদের ভোগান্তির কথা বলছেন, তাদের জিজ্ঞেস করলে বলবেন, এটিই ঈদের আনন্দ। এখন আমি কোনটা ধরব বলেন? আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী যথাসাধ্য সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। এর মধ্যে কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি থাকতেই পারে। কারণ, আমরা মানব কাঠামোর উন্নয়নে এখনো ওই জায়গায় যেতে পারিনি।