তুলা, রেশম, পাট, গাঁজা ও কলার গাছ থেকে সুতা বের করে পোশাক বানানোর কৌশল বহু আগেই রপ্ত করেছে মানুষ। হিসপানিকদের আমল থেকে আনারস পাতার তন্তু দিয়েও পোশাক বানানো হতো। এ তন্তুকে বলা হয় পাইনা বা পিনা। তবে সুতি কাপড়ে আরাম পেয়ে লোকে পাইনা কাপড়ের কথা ভুলতে বসে। একসময় পুরনো সে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনে ফিলিপিনোরা। ধীরে ধীরে আবারো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সে কাপড়।

আনারসের পাতার আঁশ থেকে এবার বাংলাদেশেও উদ্ভাবন হয়েছে সিল্ক সুতা। এ সুতা থেকে তৈরি করা হচ্ছে আরামদায়ক কাপড়। মানিকগঞ্জ জেলার বেসরকারি সংস্থা আলাপের পৃষ্ঠপোষকতায় উদ্যোক্তা মাসুদা ইসলাম দীর্ঘদিন নিরলস গবেষণার মাধ্যমে এ সুতা উদ্ভাবন করেন, যার নাম দেয়া হয়েছে পাইনআপল সিল্ক। 

মানিকগঞ্জের বেউথা এলাকায় গতকাল পাইনাপেল সিল্ক উদ্ভাবনী পরিদর্শন ও এর উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় মিশন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. গোলাম রহমার, ঢাকা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক মোজাম্মেল হক, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) শুক্লা সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলছত্র এলাকা আনারসের জন্য বিখ্যাত। এ ফলের পাতা থেকে ফাইবার নিয়ে দীর্ঘ ‍একযুগ ধরে কাজ করছেন মাসুদা ইসলাম। সে তন্তু থেকে উদ্ভাবিত কাপড় দিয়ে শাড়ি, শার্ট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শাল তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এসব পণ্য বিদেশেও রফতানির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন উদ্যোক্তা মাসুদা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে এ কাজ শুরু হলে মানিকগঞ্জের অসংখ্য বেকার তাঁতির কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আবার ফিরে আসবে তাঁতের ঠুংঠাং আওয়াজ ও কর্মচাঞ্চলতা।’

সমাজকল্যাণ সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আনারস খেয়ে তার ছাল ও পাতা আমরা ফেলে দিই। ফেলনা সে জিনিস থেকেই সুতা তৈরি এবং তা দিয়ে কাপড় বানানোর উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।’