সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবান্ন উপলক্ষে গতকাল মাছের মেলা বসেছিল বগুড়ার শিবগঞ্জের উথলী গ্রামে। এ মেলায় ঢল নেমেছিল আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষের। এবারের মেলায় শতাধিক দোকানে মাছ কেনাবেচা হলেও সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ১৩ কেজি ওজনের কাতলা ও বাগাড়।

স্থানীয়রা জানান, শত বছর ধরে নবান্ন ঘিরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। জামাতারা এ মেলা থেকে মাছ কিনে শ্বশুরবাড়িতে যাবেন, এটাই মেলার প্রধান ঐতিহ্য। তবে জামাতাদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এ মেলা থেকে মাছ কিনে থাকেন।

পঞ্জিকা অনুসারে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গতকাল নবান্ন উৎসব পালন করেন। তাই এবারো নবান্ন উপলক্ষে উথলী গ্রামে মাছের মেলা বসে। মেলা উপলক্ষে রথবাড়ি, নারায়ণপুর, ধোন্দাকোলা, সাদুল্লাপুর, বেড়াবালা, আকনপাড়া, গরীবপুর, দেবীপুর, গুজিয়া, মেদেনীপাড়া, বাকশন, গনেশপুরসহ প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ আগেই মেয়ে-জামাইদের নিমন্ত্রণ করে। ঐতিহ্য মেনে গতকাল নিমন্ত্রিতরা মাছ নিয়ে যান শ্বশুরবাড়িতে।

এবারের মেলায় মাছের পাশাপাশি সবজির পসরাও সাজিয়ে বসেছিলেন বিক্রেতারা। মেলায় নতুন আলু বিক্রি হয়েছে ১৬০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া মিষ্টি আলু ও কেশর (ফল) প্রতি কেজি ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। মেলায় বড় আকারের মাছ কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার এবং মাঝারি আকারের ২০০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মোকামতলা বাজারের ভাইভাই মত্স্য আড়তের স্বত্বাধিকারী শাহীন আলম জানান, এবার মেলায় বিক্রির জন্য পাঁচটি ট্রাকে মাছ এনেছেন তিনি। এগুলোর ওজন ১ থেকে ৮ কেজির মধ্যে।

মেলায় মাছ কিনতে আসা বেড়াবালা গ্রামের মছির উদ্দিন ও রহবল গ্রামের সুখেন চন্দ্র দাস জানান, উথলীর নবান্ন মেলায় বিক্রির জন্য আশপাশের এলাকার পুকুরগুলোতে শৌখিন চাষীরা মাছ মজুদ করে রাখেন। এলাকার কে কত বড় মাছ মেলায় তুলতে পারেন, যেন তারই প্রতিযোগিতা চলে মাছচাষীদের মধ্যে। এছাড়া আড়তদাররা তো আছেই। এলাকার লোকজনও প্রতিযোগিতা করে তুলনামূলক বড় মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে যায়।

উথলী বাজারের ইজারাদার ওমর ফারুক জানান, আগে মেলাটি ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা ব্যাপকতা লাভ করেছে। শুধু আশপাশেরই নয়, পুরো শিবগঞ্জ উপজেলার