বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ইরানের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমর্থন সরকারের তুলনায় বেশি বলে মনে করছে তেহরান। তবে বাংলাদেশের সরকারও ইরানকে বস্তুগত ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ডা. জলিল রহিমি জাহানাবাদি।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় ইরান দূতাবাসে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশের ইরাননীতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অবস্থানকে তিনি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও বিচক্ষণ মনে করেন। তবে তার মতে, ভ্রাতৃত্ব ও সমর্থনের দিক থেকে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ সরকারের চেয়েও অনেক এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকার ইরানকে বস্তুগত ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক রয়েছে। দেশটিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এসব বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের নীতিকে গ্রহণযোগ্য মনে করে ইরান।

বাংলাদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ইরানের মুসলিম ভাই ও বোন। পারস্য উপসাগরে কিংবা আরব ও মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে যুদ্ধ চায় না ইরান। তার ভাষ্য, আরব দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি না থাকলে সেসব দেশে ইরান হামলা চালাত না।

মক্কা, মদিনা ও বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইরানের ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, পবিত্র স্থানগুলোর অবমাননা চায় না তার দেশ। তবে নিজেদের রক্ষায় ইরান প্রস্তুত রয়েছে।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সমর্থন সরকারের চেয়ে বেশি বলে রাষ্ট্রদূতের এ বক্তব্য তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবে এসেছে। এ মূল্যায়নের পক্ষে কোনো জরিপ বা পরিসংখ্যান তিনি তুলে ধরেননি।