দেশে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দশকের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সৌরবিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছে দিতে কাজ করছে সংস্থাটি। এরই অংশ হিসেবে রাজধানীতে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’ এ অংশ নিয়ে নিজেদের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি তুলে ধরছে পদক্ষেপ। বুধবার (৪ নভেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিআরএস) কর্মসূচিতে ভবিষ্যতে ডিমান্ড অ্যাগ্রিগেটর (ডিএ) হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এক্সপোর ৯৩ নম্বর স্টলে পদক্ষেপ প্রদর্শন করছে সৌরপ্যানেল, অফ-গ্রিড ইনভার্টার, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ। এর মধ্যে রয়েছে ১ দশমিক ৭ কিলোওয়াটের ইনভার্টার, ১২ ভোল্টের ১০০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ও ৬৪ ভোল্টের ১৫০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি এবং ২০০ ও ৩৫০ ওয়াটের সৌরপ্যানেল। এসব সরঞ্জামের মাধ্যমে সংস্থাটির বাস্তবায়িত ও চলমান সৌরবিদ্যুৎ এবং এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (ইএসএস) অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।

২০০৫ সালে সৌরবিদ্যুৎ খাতে যাত্রা শুরু করে পদক্ষেপ। ইডকল ও সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করে সংস্থাটি প্রত্যন্ত ও বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত এলাকার পরিবারগুলোর কাছে সোলার হোম সিস্টেম পৌঁছে দেয়।

পদক্ষেপের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশের ১০ জেলায় ৩৩ হাজার ৮২৩টি সোলার হোম সিস্টেম এবং ৩ হাজার ২০টি সৌর সড়কবাতি স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সব মিলিয়ে স্থাপিত ব্যবস্থার সংখ্যা ৩৬ হাজার ৮৪৩টি। জেলাগুলো হলো খাগড়াছড়ি, রংপুর, দিনাজপুর, বরিশাল, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, বান্দরবান, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ। কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা থাকায় স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর জন্যও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মালিক হওয়া সহজ হয়েছে।

নিজস্ব কার্যক্রমেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়েছে পদক্ষেপ। ২০২২ সালে ঢাকায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে ২৪ দশমিক ০৯ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়। এটি থেকে বছরে আনুমানিক ৩৩ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখা কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ও লিথিয়াম ব্যাটারিভিত্তিক এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।

চলতি বছরের এপ্রিলে শিবপুর ও গৈলায় দুটি বসতবাড়ি, একটি গবাদিপশুর খামার এবং একটি মসজিদ-মাদরাসা স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের সমন্বয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সংস্থাটি। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৮ দশমিক ৮ কিলোওয়াট-পিক।

এসব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবার ইডকলের ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিআরএস) কর্মসূচিতে ডিমান্ড অ্যাগ্রিগেটর হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে পদক্ষেপ। এ লক্ষ্যে শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু হবে। এ কর্মসূচির আওতায় সংস্থার সদস্য ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরা, উপযুক্ত ছাদ ও বিদ্যুতের চাহিদা চিহ্নিত করা এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের কারিগরি সেবা ও অর্থায়নের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পদক্ষেপের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান বলেন, ‘জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের লক্ষ্য অর্জনে পরিবার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ববর্তী প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত সদস্যভিত্তিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরাই এবারের অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য।’

এদিকে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক সুবিধার বিষয়টিও এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উঠে আসে। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ইউনিট উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাওয়ার সুযোগ কার্যকর হয়েছে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ এর শর্ত পূরণ করে যারা ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে যোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন এবং গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করবেন, তারা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাবেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের সরকারি স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ও ব্যাটারি ছাড়া-উভয় ধরনের যোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এ সুবিধা প্রযোজ্য।- বিজ্ঞপ্তি