বোরো মৌসুমে যশোরে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ হয়নি। লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৩৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ ধান সংগ্রহ হয়েছে। অন্যান্য উপজেলার কৃষক কিছু ধান গুদামে বিক্রি করলেও শার্শা উপজেলার একজনও সরকারের গুদামে ধান বিক্রি করেননি। তবে চালকল মালিকরা চুক্তিবদ্ধ থাকায় চাল সংগ্রহ হয়েছে শতভাগ। এবার ধান ৩০ ও চাল ৪৪ টাকা কেজিতে কিনেছে খাদ্য বিভাগ। গত রোববার ছিল ধান-চাল সংগ্রহের শেষ দিন।

তবে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। যে কারণে অনেকে এদিকে অগ্রসর হননি। আবার উপজেলাগুলোয় খাদ্যগুদাম দূরে হওয়ায় কৃষক সেখানে যাননি।

যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বোরো মৌসুমে আমাদের ৯০ মিলারের সঙ্গে চুক্তি ছিল। যে কারণে তারা সবাই চাল দিয়েছে। তবে ধান সংগ্রহ সম্ভব হয়নি। কেননা এবার অভয়নগর ছাড়া অন্য উপজেলাগুলোয় অ্যাপসের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষক তাতে সাড়া দেননি। আবার আমাদের গুদামগুলো দূরে হওয়ায় যাতায়াত খরচের কারণে কৃষক ধান দেননি। যশোরে মোটা ধানের আবাদ কম হয়। চিকন ধানের আবাদ বেশি হয়। এটাও আরেকটি কারণ হতে পারে। বাজারে চিকন ধানের দাম বেশি পাওয়ায় কৃষক খোলাবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।’

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৩ হাজার ৫৪০ টন, সেখানে সংগ্রহ হয়েছে ৪ হাজার ৫৭৩ দশমিক ৯৬০ টন। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ২১১ টন, অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ১৩৭ টন। মণিরামপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৩৭৬ টন, অর্জিত হয়েছে ২৬১ টন। কেশবপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২১৮ টন, অর্জিত হয়েছে ৯৭৮ টন। অভয়নগরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ১৮৬ টন, অর্জিত হয়েছে ৬৬২ টন। ঝিকরগাছায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৬৪১ টন, অর্জিত হয়েছে ৪৪৬ টন। শার্শায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৯৭৫ টন। তবে এ উপজেলায় এক ছটাকও ধান কৃষক দেননি। বাঘারপাড়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৩৯০ টন, অর্জিত হয়েছে ৬৫৫ দশমিক ৬ টন। চৌগাছায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৫৪৩ টন, সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৩৪ দশমিক ৩২০ টন।

এছাড়া জেলায় চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার ৬৪৭ দশমিক ৩৪ টন, যার পুরোটাই অর্জিত হয়েছে।

যশোরের ইলা অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী শরিফুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ চাল সরবরাহের জন্য। এতে আমাদের লাভ-লোকসান যাই হোক না কেন চাল দিয়েছি।’

ঝিকরগাছা উপজেলার মাটিকুমড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বাজারে ধানের দাম বেশি। আবার সরকারের খাদ্যগুদামগুলোয় অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। যে কারণে আমরা সরকারকে ধান দিইনি।’

মণিরামপুরের মনোহরপুর গ্রামের ইসমাইল আলী বলেন, ‘খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে অনেক নিয়মকানুন রয়েছে। ফ্রেশ ধান দিতে হয়। আবার বাজারের চেয়ে দাম কম। এজন্য সব ধান বাজারে বিক্রি করেছি।’

এদিকে গত বছর যশোরে চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৩ হাজার ৬৫৩ টন, যার শতভাগ চাল সরবরাহ করেছিলেন মিল মালিকরা। আর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ হাজার ১৫৫ টন, যার মধ্যে সংগ্রহ হয়েছিল ১ হাজার ২৭০ টন। ওই বছর সরকার ৪০ টাকা কেজি চাল ও ২৭ টাকা কেজি দরে ধান কিনেছিল।