টানা বর্ষণে চাঁদপুরের মতলবে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ঘর-বাড়ি, রাস্তা ও মৎস্য খামার। জলাবদ্ধতা থাকায় আমন চাষীরাও বিপাকে পড়েছেন। সম্প্রতি টানা বর্ষণে সেচ প্রকল্পে পানির নিচে রয়েছে রোপা আমন ধান। পানি নিষ্কাশনে বিলম্ব হলে আমন ধানের চারা পচে যেতে পারে বলে মনে করছেন চাষী ও কৃষিবিদরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে উপজেলার গজরা, ফতেপুর, ইসলামাবাদ, লবাইরকান্দি, দুর্গাপুর, নিশ্চিন্তপুর, হলুদিয়া, বাগানবাড়ী, বদরপুর, রুহিতার পাড়, ঠাকুরচর, হানিরপাড়, কলাকান্দা, মিলারচর, দশানী, জোড়খালী, বালুরচর, মাথাভাঙ্গা, পাচাআনী, নাউরী, হলুদিয়া, লুদুয়া, শিকিরচর, ছেংগারচর, কেশাইর কান্দি, জীবন গাঁও, পাঠান বাজার, ঝিনাইয়া, মরাদন, অলিপুর, নয়াকান্দি, সুজাতপুর, একলাশপুরসহ সেচ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন বলেন, সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে টানা বৃষ্টিতে অনেক নিচু কৃষিজমি ও বেশ কয়েকটি বিলে দু-তিন ফুট উচ্চতার জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সেটি দূর করতে পদক্ষেপ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ। এতে গত আউশ মৌসুমে দুই হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে আবাদ করতে পারেননি চাষীরা।
গত জুলাইয়ের শুরু থেকে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেড়ে যায়। এতে বেড়িবাঁধটির ভেতরে কৃষিজমিতে আগের জলাবদ্ধতার সঙ্গে ওই বৃষ্টির পানি যোগ হয়। এখন এসব জমিতে গভীর জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে সেখানকার এক হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে আমনের আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত না হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতর চলতি মৌসুমে নয় হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধের ভেতরে আদুরভিটি, টাকুরচর, আমুয়াকান্দা, সিপাইকান্দি, ঠেটালিয়া, রাঢ়িকান্দি, ছোট ও বড় হলদিয়া, লুধুয়া, নন্দলালপুরসহ আরো কয়েকটি এলাকার জমি ও বিলে তিন-চার ফুট উচ্চতায় পানি আটকে আছে। গত আউশ মৌসুমেও এসব জমিতে ধান আবাদ করা হয়নি। আগাছা, শাপলা ও শেওলায় ভরে গেছে এসব জমি। জলাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগও চোখে পড়েনি।
উপজেলার কলাকান্দা এলাকার চাষী বাদল মিয়া বলেন, জমিতে বৃষ্টির পানি আটকাইয়া রইছে। রোপা আমন ধান পানির নিচে, এ নিয়া খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
এলাকার কয়েকজন অভিযোগ করেন, বেড়িবাঁধের ভেতরে অনেক খাল বেদখল হয়ে আছে। প্রভাবশালীরা এগুলো দখল করে স্থাপনা করছেন। পাউবো কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিচ্ছে না। জলাবদ্ধতা দূর করারও উদ্যোগ নেই তাদের। এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষীরা। জলাবদ্ধতা দূর করতে এবং অবৈধ স্থাপনা সরাতে পাউবোকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।
জানতে চাইলে মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জলাবদ্ধতা দূর করতে দুটি পাম্প হাউজ কাজ করছে। প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় ওই পানি সম্পূর্ণভাবে সরানো যাচ্ছে না। বেশকিছু নিষ্কাশন খাল বেদখলে থাকায় নিচু জমির পানি মূল খালে আনা যাচ্ছে না। এজন্য জলাবদ্ধতা থেকেই যাচ্ছে। তবু জলাবদ্ধতা নিরসনের চেষ্টা চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী শরিফুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে পাউবো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এখন পর্যন্ত পাউবো কর্তৃপক্ষ সমস্যাগুলোর সমাধান করেনি।










