সাতক্ষীরা জেলার যেসব সরকারি দপ্তর থেকে সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রাজস্ব আসে তার মধ্যে অন্যতম জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। অথচ জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোয় দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
জেলার সাতটি উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের মধ্যে চারটি পদই শূন্য। এতে জমি রেজিস্ট্রি করতে জনসাধারণের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। অনেকে না জেনে দূর থেকে এসে জমি রেজিস্ট্রি করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন ।
এদিকে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা রেজিস্ট্রার জানিয়েছেন, একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রারের শূন্য পদে জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জনবল না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে রেজিস্ট্রি কার্যক্রম।
সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলার জন্য সাতজন সাব-রেজিস্ট্রারের পদ রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া ও কালীগঞ্জ উপজেলায় একজন করে সাব-রেজিস্ট্রার রয়েছেন। বাকি চারটি উপজেলায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে নেই কোনো সাব-রেজিস্ট্রার। ওই তিন সাব-রেজিস্ট্রারকে সাত উপজেলার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে জেলার বাসিন্দারা জমি রেজিস্ট্রি করতে এসে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি হায়দার আলী জানান, সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের অধীনে প্রতিদিন গড়ে ৮০-৯০টি দলিল রেজিস্ট্রি হয়। কিন্ত যেদিন সাব-রেজিস্ট্রার অন্য উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে যান সেদিন কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হয় না। এতে করে পরের দিন দ্বিগুণ অর্থাৎ দেড় থেকে প্রায় ২০০ শত দলিল জমা হয়ে যায় রেজিস্ট্রির জন্য। অন্যদিকে অনেক দূর থেকে যারা জমি রেজিস্ট্রি করার জন্য আসেন তারাও হয়রানির শিকার হন রেজিস্ট্রারকে না পেয়ে। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলার সব সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সাব-রেজিস্ট্রারের শূন্যপদে জনবল নিয়োগ দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণে জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোয় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা জমি রেজিস্ট্রির উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে পৌঁছে জানতে পারেন রেজিস্ট্রার নেই। অফিসের কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তারা নানাভাবে হয়রানি করেন। এতে গ্রাম থেকে জেলা শহরে একাধিকবার যাতায়াতে যেমন বাড়তি খরচ, অন্যদিকে লোকজন জোগাড় করে পুনরায় রেজিস্ট্রিতে যাওয়াও চরম দুর্ভোগ।’
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাতক্ষীরা জেলা রেজিস্ট্রার আব্দুল হাফিজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সাতক্ষীরার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো থেকে সরকারের বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হয়। কিন্তু প্রায় দুই বছর ধরে মাত্র তিনজন সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে সাতটি উপজেলা অফিসের জমি রেজিস্ট্রি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে জনবল সংকটের বিষয়টি। অদ্যাবধি কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে মাত্র তিনজন অফিসার দিয়ে পুরো জেলার দায়িত্ব পালন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষও নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছে।’










