চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে বছরের প্রথম তীব্র দাবদাহ বয়ে চলেছে। আজ শনিবারও (১৫ এপ্রিল) দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২ এপ্রিল থেকে টানা ১৪ দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে জেলায়। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই তাপপ্রবাহে জনসাধারণকে সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গার প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় জেলায় ৪০ দশমিক ৪ ডিগ্রি ও বেলা ৩টায় ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তিনি আরো বলেন, প্রতিদিনই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড হচ্ছে। গত ১৪ দিন ধরে জেলায় সর্ব্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে।

চলমান তীব্র তাপপ্রবাহে সবচেয়ে কষ্টে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালক ও কৃষকেরা। তীব্র রোদে মাঠে টিকতে পারছেন না দিনমজুররা। রাস্তায় ভাড়া পাচ্ছেনা রিকশা-ভ্যান চালকরা।

শনিবার  বেলা ৩টায় তীব্র তাপ প্রবাহেও চুয়াডাঙ্গা শহরের চৌরাস্তার মোড়ে পুলিশ বক্স ঘেঁষে একটি ভ্যানে কিছু আনারস নিয়ে খদ্দেরের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শংকরচন্দ্র গ্রামের রহমানের ছেলে মিলন (৪০)। প্রচণ্ড গরমে তার আনারস বিক্রিতে ভাটা পড়েছে বলে তিনি জানান। আয় রোজগার খারাপ হওয়ায় সংসার চালানো কষ্টকর হচ্ছে। একই কথা জানলেন রিকশাচালক শুকুর আলী। বলেন, ক্রমাগত গরম পড়ায় রিকশা চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে আবার রোজার মাস চলছে। শহরে মানুষের চলাচল কম হওয়ায় ভাড়া একেবারে নেই বললেই চলে।

অন্যদিকে বিপাকে রয়েছেন কৃষকরাও। প্রতিদিন সেচ দিতে হচ্ছে বোরো ধান ও সবজি ক্ষেতে। বোয়লমারী গ্রামের কৃষক মফিজুর বলেন, ধানে সেচ দিয়ে আর পারছি না। দাম বেশি ডিজেলের। ডিজেল কিনতে গিয়ে আর পেরে উঠছি না। খুবই কষ্টে চাষাবাদ করতে হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গায় গত ২ এপ্রিল থেকে দিন জুড়ে টানা তাপ প্রবাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এ জেলায় বর্তমানে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র তাপ অনুভূত হচ্ছে। বেলা যত বাড়ছে রোদের তীব্রতা তত বাড়ছে। বিশেষ করে দুপুরের পর আগুন ঝরা রোদের তেজে বাইরে বের হওয়া মুশকিল হয়ে পড়ছে। প্রয়োজনের তাগিদে কেউ কেউ ঘর থেকে কাজের উদ্দেশে বের হলেও, কাজ শেষে দ্রুত ঘরে ফিরে যাচ্ছে। কাঁচা তরি-তরকারিসহ অন্যান্য বাজারে ক্রেতাদের ভিড় নেই। ঈদ বাজারেও ক্রেতার পরিমাণ কম।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জেলার সর্বত্র জনসাধারণকে সতর্ক করা হচ্ছে। অতি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ যাতে ঘর থেকে বের না হয় সে ব্যাপারে বলা হচ্ছে। এছাড়া হিটস্ট্রোক ও ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আওলিয়ার রহমান বলেন, তাপপ্রবাহে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে, সে কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ যেন ঘরের বাইরে বের না হয় সে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। রোজাদারদের ইফতারির পর পর বেশি বেশি পানি ও ফল খেতে বলা হচ্ছে। শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের যারা রোজাদার নন, তাদেরকে ঘন ঘন পানি ও শরবত পান করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।