মিরসরাইয়ে ২১০ বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বিজয়ের মাসে স্থানীয় এ বীরদের গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংবর্ধনা দেন করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি।
করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, মিরসরাই পৌরসভার মেয়র গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কবির আহম্মদ, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উদযাপন পরিষদের মহাসচিব রেজাউল করিম চৌধুরী হুমায়ুন, প্রধান সমন্বয়ক, চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মাস্টার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন দিদার, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আবু তাহের, মিরসরাই পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাফর উদ্দিন।
সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘মিরসরাই
উপজেলা থেকে ১৯৭১ সালে সর্বচ্চোসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেন। অনেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের জীবন বাজি রেখে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ক্যাম্পে গেরিলা যোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন। অথচ যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে তাদের কোনো খেতাব দেয়া হয়নি। সেনাবাহিনী পেল বীর উত্তম, বীর প্রতীক, বীরশ্রেষ্ঠ আর প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা হয়েছেন বীর অধম। যেসব যোদ্ধা সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন আমি তাদের খেতাব দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হটিয়ে ১৯৭১ সালের ৮ ডিসেম্বর মিরসরাইকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। তবে ডিসেম্বরের প্রথম দিকেই মিরসরাইয়ের প্রায় এলাকা শত্রুমুক্ত হয়। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর কিছু সদস্য ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর তখনো থানা সদরে অবস্থান করছিল। তাদের আস্তানা ছিল মিরসরাই উচ্চ বিদ্যালয় (বর্তমান মিরসরাই পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়) ও মিরসরাই থানায়। সে কারণে এলাকাটিকে শত্রুমুক্ত ঘোষণা করা যাচ্ছিল না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থান নেয়া মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। মুক্ত হয় মিরসরাই।










