বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি একেএম আব্দুল হাকিম বলেছেন, ‘সাংবাদিকতা পেশাকে অবশ্যই দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে স্থান দিতে হবে। গণমাধ্যম কর্মীকে তার নিজস্ব মতামত প্রচার ও প্রকাশ বর্জন করতে হবে। গণমাধ্যমে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করলে গ্রহণযোগ্যতা পায় না। নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠিত করে, মানুষের মনে আস্থা তৈরি করে। এর মধ্য দিয়ে একটি দেশের গণমাধ্যম মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়।’

গতকাল দুপুরে যশোর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘গণমাধ্যমে অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন।

সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিত করা না গেলে গণমাধ্যমকে কার্যত রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভে পরিণত করা যাবে না উল্লেখ করে একেএম আব্দুল হাকিম বলেন, ‘এজন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দরকার। এসব বিবেচনা করেই সাংবাদিকদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া চলছে।’

গণমাধ্যমে তথ্য প্রচার-প্রকাশে ভুলভ্রান্তির বিষয়ে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘ভুল সংশোধন, দুঃখ প্রকাশ করার সংস্কৃতি আমাদের গণমাধ্যমগুলোকে গড়ে তুলতে হবে। এতে গণমাধ্যম আরো শক্তিশালী হয়, গ্রহণযোগ্য হয় এবং সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি সন্তুষ্ট হয়। এটাই গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা।’

তিনি বলেন, ‘কেবল অভিযুক্ত হলেই কেউ অপরাধী হয়ে যান না, বিচারে প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না। সাংবাদিকদের অবশ্যই অভিযুক্ত ও অপরাধীর মধ্যে পার্থক্য বোঝা উচিত। মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করতে হবে এবং আইন-আদালতের প্রতি সম্মান বজায় রাখতে হবে। মানহানিকর বিষয় প্রচারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, তা না হলে সমাজে অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। কোনো সাংবাদিককে সংবাদের সূত্র প্রকাশে বাধ্য করা যাবে না। এটাই একজন সাংবাদিকের অন্যতম সুরক্ষা। তবে তথ্য যেন নির্ভরযোগ্য, সময়োপযোগী ও বস্তুনিষ্ঠ হয়, এটা নিশ্চিত করা জরুরি।’

দেশের সাংবাদিক সমাজে বিভাজনের বিষয়ে একেএম আব্দুল হাকিম বলেন, ‘প্রেস ক্লাব হলো একটি সামাজিক সংগঠন, যেখানে সাংবাদিকরা মিলিত হবেন, মতবিনিময় করবেন, সহমর্মিতা ও সৌহার্দ গড়ে তুলবেন। কিন্তু অতিরিক্ত বিভাজন পেশাদারত্বকে আঘাত করে।’