টিফিন বিল, ইনসেনটিভ বোনাস, মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা, দুই মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ না করেই অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিস টানিয়ে দিয়েছে গাজীপুরের খানটেক্স ফ্যাশনস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। তিনদিন ধরে প্রশাসন এবং অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তারা কারখানায় আসেন না বলে দাবি করেছেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে কারখানায় গিয়ে বন্ধের নোটিস দেখতে পান তারা।

কেএফএল গ্রুপের খানটেক্স ফ্যাশনস লিমিটেড কারখানাটি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বারতোপা গ্রামে অবস্থিত। সেখানে দেড় হাজার শ্রমিক কাজ করেন। বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানায় শিল্প পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

কারখানার সুইং সেকশনের অপারেটর নাঈম খান, আনিছুর রহমান, ফিনিশিং সেকশনের প্যাকিংম্যান মিঠু, পলিম্যান লাকিসহ অনেকে জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বেতন পরিশোধের কথা থাকলেও প্রতি মাসেই কারখানা কর্তৃপক্ষ ২০ তারিখের পর বেতন দেয়। চলতি মাসসহ তাদের দুই মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। তাছাড়া গত বছরের টিফিন বিল, ইনসেনটিভ বোনাস, ছুটির টাকা, মাতৃত্বকালীন ছুটির টাকা এখনো দেয়নি। বেতনসহ অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করে কর্তৃপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিস টানিয়ে দিয়েছে। কারখানার স্টাফ ও কর্মকর্তাদেরও তিন মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।

সুইং সেকশনের অপারেটর মামুন মিয়া, ফিনিশিং সেকশনের পলিম্যান জহুরা আক্তার বলেন, ‘কারখানায় কাজ না থাকায় কর্তৃপক্ষ সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে আমাদের দিয়ে কাজ করায়। বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ না করে হঠাৎ বন্ধের নোটিস টানিয়ে কারখানার মালিক ও তাদের লোকজন পালিয়ে গেছেন। আমরা বিশৃঙ্খলা করতে চাই না। মালিক অথবা তার কোনো প্রতিনিধি এসে আমাদের বকেয়া যেন পরিশোধ করার ব্যবস্থা করে।’

অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিসে খানটেক্স ফ্যাশনস লিমিটেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির উল্লেখ করেন, দেশের সার্বিক অস্থিরতা, অনিরাপত্তা গার্মেন্টস শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিপদের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব প্রত্যেকটি রফতানিমুখী গার্মেন্টসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আমরা সাব-কন্ট্রাক্টে অর্ডার এনে কারখানায় কাজ করছি। ২১ জুলাই থেকে শ্রমিকরা অবৈধভাবে কারখানার কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে আমাদের কাছে অর্ডার দেয়া কারখানার মালিকরা তাদের সব কাজ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বর্তমানে কারখানায় কোনো কাজ ও কাঁচামাল নেই। এ পরিস্থিতিতে কারখানা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ ধারা-১৩ উপধারা-০১ অনুসারে এবং বিধিমালা ২০১৫ অনুযায়ী কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। পরবর্তী সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কার্যক্রম পূর্ব সময়সূচি অনুযায়ী পরিচালনা করা হবে।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে খানটেক্স ফ্যাশনস লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘হঠাৎ করে শ্রমিকরা অর্ডারের কাজ শেষ না করেই বেতন চাচ্ছে। শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে দেয়ায় অর্ডার দেয়া কারখানার মালিকরা তাদের সব কাজ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এখন কারখানায় কাজ না থাকায় বন্ধের নোটিস টানিয়ে দেয়া হয়েছে।’