পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী বরগুনার লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে বরগুনার নানাবাড়িতে দাফন করা হয়েছে। সোহাগের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার ও এলাকাবাসী।
এখন নতুন করে নিরাপত্তার শঙ্কায় ভুগছে পরিবারটি। স্বজনেরা বলেন, এখনো প্রতিনিয়ত মুঠোফোনে হুমকি দিচ্ছে হত্যাকারীদের লোকজন। সোহাগের ১০ বছরের ছেলে সোহান ও ১৪ বছরের মেয়ে সোহানা। তাদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা জানা নেই স্ত্রী লাকি বেগমের (৩০)।
এর আগে শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে লাল চাঁদ ওরফে সোহাগের মরদেহ বরগুনায় নিয়ে আসেন স্বজনরা। সদর উপজেলার ৭ নম্বর ঢলুয়া ইউনিয়নের ইসলামপুর নামক এলাকায় তার মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
স্বজন সূত্রে জানা যায়, সোহাগের বয়স যখন মাত্র ৭ মাস তখন বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তার বাবা আইউব আলীর। এরপর জীবিকার তাগিদে মা আলেয়া বেগম শিশু সোহাগ ও তার আরো দুই কন্যা সন্তানকে নিয়ে বরগুনা ছেড়ে রাজধানী ঢাকায় পাড়ি দেন। ওই সময় থেকেই সোহাগ ঢাকায় বসবাস করতেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ‘মেসার্স সোহানা মেটাল’ নামের একটি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করেই অভিযুক্তদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। পরে চাঁদা দাবির টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সোহাগের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে অভিযুক্তরা। এরপর বুধবার বিকালে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে চাঁদার দাবিতে সোহাগকে আটকে রেখে দফায় দফায় চাপ প্রয়োগ করা হয়। এতেও চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় সোহাগকে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে পাথর মেরে হত্যা করা হয় বলে জানান স্বজনরা। নিহত সোহাগ তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকার জিঞ্জিরার কদমতলী এলাকায় কেরানিগঞ্জ মডেল টাউনে বসবাস করতেন।
শনিবার দুপুরে নিহত সোহাগের গ্রামের বাড়ি ইসলামপুরে গিয়ে দেখা যায় দোতলা টিনের ঘরের মধ্যে একটি চৌকির এক কোণে বসে নির্বাক অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন নিহত সোহাগের স্ত্রী লাকি বেগম। কিছু জিজ্ঞেস করলেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।
পরিবারটির খোঁজ নিতে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সোহাগের বাড়িতে যান বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, নিহত সোহাগ আমাদের দলীয় লোক। শোকার্ত পরিবারটির খোঁজখবর নিয়েছি। তাদের আইনি ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।
সোহাগের মেয়ে সোহানা বলেন, আমার বাবার হত্যাকারীদের শাস্তি চাই। আমাদের নিরাপত্তার জন্য সরকার প্রধানের কাছে আবেদন আমাদের পরিবারকে বাঁচান। হত্যাকারীরা আমাদের বাসা লুট করতে চাইছিল। জানি না ঢাকায় গেলে আমাদের কী হয়।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেছেন, পরিবারটিকে আমাদের সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।










