দেশের একাধিক ভারী শিল্প একসময় স্বর্ণযুগ পার করে পরবর্তী সময়ে বিস্মৃত হয়ে গেছে। পাট, চিনি, ইস্পাত, কেমিক্যালের রাষ্ট্রায়ত্ত খাতও এখন ধুঁকছে। বেসরকারিভাবে বিনিয়োগে থাকলেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় চা শিল্পও ক্রমে মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। তবে গত এক দশকের নানা উদ্যোগে ঘুরে দাঁড়িয়েছে চা শিল্প। ধারাবাহিকভাবে চা রফতানি থেকে আমদানিকারক দেশে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের চা শিল্প এখন নতুন সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে।

একসময় চা উৎপাদনে বাংলাদেশ ছিল শীর্ষ পর্যায়ের। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে চায়ের ব্যবহারও বেড়েছে। বাংলাদেশ চা উৎপাদন ও রফতানি ছিল উল্লেখযোগ্য। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দেড় দশক আগে উৎপাদনের তুলনায় ব্যবহার বাড়ায় আমদানিকারক দেশে পরিণত হয় বাংলাদেশ। তবে সরকারের বিশেষ তদারকি ও তত্ত্বাবধানে চায়ের পুরনো ঐতিহ্য ফিরে আসছে। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ দেশীয় চাহিদার অতিরিক্ত চা উৎপাদন করছে। পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে চায়ের রফতানিও বাড়ছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের জাতীয় চা নীতি ঘোষণা, রুগ্ণ চা বাগানকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে ভালো ও যোগ্য বিনিয়োগকারীদের হস্তান্তর, চা আমদানি নিরুৎসাহিত করা এবং চা খাতের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তদারকি বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছরই বাড়ছে চা উৎপাদন। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ বার্ষিক চা ব্যবহারের চেয়েও বেশি উৎপাদন করছে। চলতি বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হঠাৎ করেই বাড়িয়ে ১০ কোটি কেজিতে উন্নীত করেছে চা বোর্ড। সর্বশেষ কয়েক বছরে দেশের ১৬৭টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা চাষে মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাত-আট কোটি কেজির মধ্যে। কিন্তু চলতি বছর চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়িয়ে ১২ কোটি কেজিতে নিয়ে যেতে চায় চা বোর্ড।