যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। কিন্তু সেই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে বলে ব্লাস্টের মতবিনিময় সভায় বক্তারা মন্তব্য করেছে। তাদের মতে, যৌন হয়রানি নিরসনে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন যৌন সহিংসতার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত ‘যৌন হয়রানি নিরসনে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা: বর্তমান অবস্থা ও বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লাস্টের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট জেডআই খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ড. বিশ্বজিৎ চন্দ, ব্লাস্টের পরিচালক (আইন) অ্যাডভোকেট মো. বরকত আলী, ব্লাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য তাহমিনা রহমানসহ অন্যরা। 

যৌন হয়রানি নিরসনে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন তাহমিনা রহমান। তিনি বলেন, ‘যৌন হয়রানি নিয়ে আদালত ১১টি নির্দেশনা দিয়েছিল। একই সঙ্গে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্ট কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেছেন। এর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা, কাউন্সেলিং করানো, ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া যতদিন পর্যন্ত সংসদে আইন হবে না ততদিন এ ১১ দফার নির্দেশনা কার্যকর হবে। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নে ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে।’ 

জেডআই খান পান্না বলেন, ‘দলনিরপেক্ষ স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে যৌন হয়রানির বিষয়ে মোকাবেলা করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে প্ররোচিত নিয়োগের দৌরাত্ম্য হ্রাস করতে হবে। এ নিয়ে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সবাই প্রচেষ্টা চালালে বর্তমান অন্ধকার অবস্থা দূর হয়ে আলো আসবেই।’