বিশ্বব্যাপী অক্টোবর মাসকে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পালন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করে ল্যাবএইড ক্যান্সার হসপিটাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার। মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় র‌্যালি মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। সেমিনারে উপস্থিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা স্তন ক্যান্সার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ার জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন মো. মেশকাতুল মনোয়ার (হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট)। এছাড়া সেমিনারে বক্তব্য রাখেন হাসপাতালটির সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এহ্তেশামুল হক, ডা.পারভিন আক্তার বানু এবং ল্যাবএইড ব্রেস্ট ক্যান্সারের কনসালট্যান্ট ডা. আলী নাফিসা ।

সেমিনারের শুরুতে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এহ্তেশামুল হক বলেন , আমরা স্তন ক্যান্সারের সচেতনতা নিয়ে বিগত প্রায় ১ দশক ধরে বাংলাদেশে কাজ করি। স্তন ক্যান্সার সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের মাধ্যমে বা যেভাবেই হোক, প্রাথমকি পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার রোগ অনেক বেশি ধরা পড়ছে। আর আমরা গত ১ বছরে টেস্ট করে ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতালে খুব একটা ক্যান্সার রোগী পাইনি।

তবে প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার ধরার পড়ার পর এ ক্যান্সারের ডায়গোনোসিস থেকে শুরু করে গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা সেটা কোথায় পাওয়া যাবে- এটা চিন্তার বিষয়। আর্লি ব্রেস্ট ক্যান্সার ডিটেক্ট করার পর সেটার স্পেশালাইজড যে বায়োপসি সেটা এখনো আমাদের দেশে পর্যাপ্ত নেই। আবার স্ক্রিনিংয়ের জন্য যে থ্রিডি মেমোগ্রাম সেটা আমরা সংযোজন করেছি। জনসংখ্যার তুলনায় এ ফ্যাসিলিটিটাও অপ্রতুল। এছাড়া তিনি ক্যান্সার সেন্টার এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার ফ্যাসিলিটি আরো বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

ডা. পারভিন আক্তার বানু বলেন, অক্টোবর মাস ব্রেস্ট ক্যান্সার অ্যাওয়ার্নেস মাস। এ মাস উদযাপনের মূল লক্ষ্যে হলো, এ বার্তাটি সবার মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যে ব্রেস্ট ক্যান্সার দিন দিন বাড়ছে।ব্রেস্ট ক্যান্সার আর্লি ডিটেকশন হলে এবং ডায়গোনসিস হলে তা নিরাময় হয়। স্ক্রিনিং এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ল্যাবএইড হাসপাতালে ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসার সব ধরনের ইক্যুইপমেন্ট আছে। সার্জারি, হরমোন থেরাপি, কেমো থেরাপি- সব কিছুর সু ব্যবস্থা রয়েছে।

ডা. আলী নাফিসা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়গোনসিসের হলে রোগী ক্যান্সারের কারণে মৃত্যুবরণ করে না । তবে দেরিতে ডায়গোনসিস হলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। ব্রেস্ট ক্যান্সার ডিটেকটিভ স্ক্রিনিং করা জরুরি। আমরা আসল বেনিফিটটা পাবো মেমোগ্রাম করে। আমাদের এখানে সম্প্রতি একটি থ্রিডি মেমোগ্রাম মেশিন বসেছে , যেটা বাংলাদেশে খুবই লেটেস্ট। এটার ডিডেক্শন লেভেল হাই।