কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসার জন্য রেমডিসিভির ওষুধ স্থানীয়ভাবে কিনতে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলা বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

১ এপ্রিল করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত মহাখালীর ডিএনসিসি করোনা আইসোলেশন সেন্টার প্রস্তুত করাসহ অন্যান্য হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসায় স্থানীয় উৎস থেকে রেমডিসিভির কিনতে সিএমএসডিকে নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তখন সিএমএসডির পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান মন্ত্রীসহ অন্যদের জানান, তাদের গুদামে ৪০০ রেমডিসিভির মজুদ রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বণিক বার্তাকে বলেন, বিভিন্ন জেলার হাসপাতালগুলোকে রেমডিসিভির চাহিদা জানাতে বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী ওষুধটি সংগ্রহের পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আটটি ওষুধ কোম্পানিকে রেমডিসিভির তৈরির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যদিও বিশ্বের কোথাও এখনো কভিড-১৯-এর চিকিৎসায় পুরোপুরি কার্যকর কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এ রোগে গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসায় অ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ রেমডিসিভির ব্যবহারে কিছুটা উপকার পাওয়া গেছে। যে কারণে বিশ্বের অনেক দেশ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া কভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

তবে গত বছরের নভেম্বরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কভিড-১৯ রোগের চিকিৎসায় রেমডিসিভির ব্যবহার না করার পরামর্শ দেয়। তাদের বক্তব্য ছিল, ওষুধটি ব্যবহারে গুরুতর অসুস্থ কভিড-১৯ রোগী বা অন্যদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউর ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। চাইলেই রাতারাতি বিপুল পরিমাণ আইসিইউ স্থাপন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারী দীর্ঘায়িত হতে পারে, তাই পরিকল্পনাও দীর্ঘমেয়াদি নেয়া প্রয়োজন। এজন্য সারা দেশের সব পর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সক্ষম করে তুলতে হবে। তিনি জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা স্থাপন ও সাধারণ ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই থাকলে হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা স্থাপন করে এইচডিইউতে রূপান্তর করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে নির্দেশ দেন।

এ সময় কভিড রোগীদের চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি জেলা-উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী বেড, হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন কনসেনট্র্রেটর, ভেন্টিলেটর সরবরাহ করার পরিকল্পনার কথা জানায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সিএমএসডি পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামান জানান, সিএমএসডিতে ৩৬১টি ফাইভ ফাংশনাল ও থ্রি ফাংশনাল আইসিইউ, ২ হাজার ২৫৮টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ৮ হাজার ৪০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার, ১৬৬টি ভেন্টিলেটর ও ৩৩৫টি হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা রয়েছে। এছাড়া ২৯ লাখ ৬৬ হাজার পিপিই, ৬ লাখ ১৪ হাজার মাস্ক মজুদ আছে। ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৬ হাজার আরটি-পিসিআর কিট মজুদ থাকার তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, আরো এক লাখ কিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারা। কভিড-১৯ মোকাবেলায় জরুরি বিবেচনায় পিসিআর কনজিউম্যাবলস, পিপিই ও পিসিআর কিট সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানানো হয়।