ঢাকার আশুলিয়ায় ইসলামী ব্যাংকের দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় গ্রাহকের টাকা ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নতুন এজেন্ট ও ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। দুটি শাখার এজেন্টকে ব্যাংকের পক্ষ থেকে দেয়া শোকজ নোটিস থেকে এ তথ্য জানা যায়। এ ঘটনা আড়াল করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ব্যাংকের আশুলিয়া শাখাপ্রধান মো. আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশুলিয়ার কলমা ও দোসাইদ এলাকায় ইসলামী ব্যাংকের দুটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা চার মাস ধরে বন্ধ থাকার পর গত অক্টোবর থেকে নতুন করে লেনদেন শুরু হয়েছে। কিন্তু আশানুরূপ গ্রাহক ও লেনদেন না হওয়ায় হতাশ এজেন্ট দুটির নতুন মালিক।

শুরু থেকেই এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা দুটিতে প্রথম মাসেই ব্যাপক গ্রাহক সংখ্যা ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু ফেয়ার এন্টারপ্রাইজ ও ফেয়ার ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুর রাজ্জাক (৩৮) দোসাইদ ও কলমার দুটি শাখাতেই অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক নীলফামারী জেলার ডোমার থানার গোসাইগঞ্জ গ্রামের মৃত মো. মহসীন আলীর ছেলে। তিনি সাভারের একটি বেসরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আশুলিয়ার কলমা এজেন্ট শাখায় একজন গ্রাহক ১১ লাখ টাকা জমা দেয়ার এক মাস পর তার টাকা উত্তোলন করতে গেলে জানতে পারেন তার অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

এ ঘটনার সূত্র ধরেই ইসলামী ব্যাংকের প্রধান শাখা থেকে একাধিক তদন্তের পর প্রথমে সার্ভার এবং পরবর্তী সময়ে দুটি এজেন্ট শাখার সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা দুটির সার্ভার বন্ধ থাকার সময়ও অনেক গ্রাহকের টাকা জমা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

শাখা দুটি বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আর্থিক সামর্থ্য না থাকার জন্য চালাতে পারছেন না। এজেন্ট বিক্রি হয়ে গেছে, বর্তমানে ভালো চলছে। গ্রাহকদের টাকা ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহার নিয়ে জানতে চাইলে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ব্যাপারে ইসলামী ব্যাংক আশুলিয়া শাখার প্রধান মো. আলতাফ হোসেন বলেন, মালিকানা পরিবর্তন করা হবে, এজন্য এজেন্ট শাখা দুটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। দুটি এজেন্ট শাখা একই সময়ে বন্ধ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। আগের এজেন্ট আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা হেড অফিসের ব্যাপার, আমি কিছু জানি না।