ইয়াসমীন ট্র্যাজেডির ২৭ বছর পূর্তি ও গণআন্দোলন উপলক্ষে গতকাল দিনাজপুরে নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। স্থানীয় পূর্ব সাদিপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গতকাল আয়োজিত সেই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ওই আন্দোলনের অন্যতম নেতা দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল। অন্যদিকে দিনাজপুরের সাংবাদিক সমাজ দিবসটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করেছে।

কিশোরী ইয়াসমীন ঢাকা থেকে নাইট কোচে ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোরে দিনাজপুরের দশমাইল মোড়ে নামে। এ সময় কোতোয়ালি থানার টহল পুলিশের একটি দল সেই কিশোরীকে দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার নাম করে পিকআপে তুলে নেয়। এরপর সেই পুলিশ সদস্যরা পথেই তাকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করে মহাসড়কের ধারে ফেলে দেয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওই সময় দিনাজপুরে পুলিশের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তার চূড়ান্ত রূপ নেয় ২৭ আগস্ট। সেদিন পুলিশের গুলিতে সামু, কাদের, সিরাজসহ সাতজন নিহত হন। অপরদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, প্রেস ক্লাব, সংবাদপত্র কার্যালয়ে আগুন, আসবাবপত্র লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সেই থেকে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ২৭ আগস্ট স্মরণসভা এবং সাংবাদিক সমাজ দিবসটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

ইয়াসমীন ট্র্যাজেডি পরিষদের আহ্বায়ক মো. মজিদুল ইসলাম মাস্টারের সভাপতিত্বে গতকালের স্মরণসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বীরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাসুদুল হক, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা ডা. আব্দুল করিম, কাহারোল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ প্রমুখ। দিনাজপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি স্বরূপ বকসী বাচ্চুর সভাপতিত্বে কালো দিবসের আলোচনায় অংশ নেন সাংবাদিক চিত্ত ঘোষ, সুব্রত মজুমদার ডলার, কঙ্কন কর্মকার, রতন সিং, একরাম হোসেন তালুকদার, মুকুল চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।