কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় বাগেরহাটের মোল্লাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন অ্যাম্বুলেন্সের চারটি চাকা, মবিল চেম্বারসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সটি বিকল থাকায় সেবাবঞ্চিত হচ্ছে রোগী। দেড় বছর ধরে তিন দফায় চুরির ঘটনায় থানায় জিডি হলেও রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগ।
মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রোগীদের ভোগান্তি থেকে রক্ষার জন্য ২০২১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুকূলে ২০২০-২১ অর্থবছরে একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেয়া হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর বরাবর চিঠি দেন। পরবর্তীতে অ্যাম্বুলেন্সটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি জরাজীর্ণ একটি গ্যারেজে রাখা হয়। এরই মধ্যে গত বছরের ২০ জানুয়ারি অ্যাম্বুলেন্সের চারটি চাকা চুরি হয়েছে বলে মোল্লাহাট থানায় সাধারণ ডায়রি করেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রায়হান। তখন জানা যায়, গ্যারেজের লোহার শিক ভেঙে চাকা চুরি হয়েছে। এর এক বছর পরে এ বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি অ্যাম্বুলেন্সের পাশের গ্লাস ভাঙা, অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফায়ার বক্স সিলিন্ডার, ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারি, মবিল চেম্বারের ঢাকনা চুরি হয়েছে বলে সাধারণ ডায়েরি করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার নাহিদুল ইসলাম। তবে ওই সাধারণ ডায়েরিতে বলা হয় এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপাতত মামলা করতে ইচ্ছুক না। এ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সটি চালু হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য নির্ধারিত কোনো চালক নেই। আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত দুজন নৈশপ্রহরী থাকলেও ১১ মাস বেতন না পাওয়ায় তারা দায়িত্ব পালন করেন না।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল ভবনের পেছনে জরাজীর্ণ একটি গ্যারেজের মধ্যে নতুন অ্যাম্বুলেন্সটি রাখা আছে। গ্যারেজের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে অ্যাম্বুলেন্সের ওপর। বাম পাশের দরজার গ্লাস ভাঙা। কোনো চাকা নেই গাড়িতে। গাড়ির ভেতরে অক্সিজেন সিলিন্ডার, ফায়ার বক্স সিলিন্ডার, ১২ ভোল্টের একটি ব্যাটারি, মবিল চেম্বারের ঢাকনা নেই। অযত্নে অবহেলায় অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজের মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় নাদিম শেখ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘প্রতিনিয়তই এ হাসপাতাল থেকে অসুস্থ রোগীদের বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রোগীর স্বজনরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে যায়। তিনি গ্যারেজে থাকা অ্যাম্বুলেন্সটি সচল ও স্থায়ী চালক নিয়োগের মাধ্যমে রোগীদের সেবা প্রদানের দাবি জানান।
তাওহীদ ভুইয়া নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘একজন রোগীকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে খুলনা নিতে লাগে ১৪০০-১৬০০ টাকা। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে দিতে হয় ২৫০০-৩০০০ টাকা। যেকোনো মূল্যে হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালু করা প্রয়োজন।’
মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহফুজা খাতুন বলেন, ‘আমি যোগদানের আগেই অ্যাম্বুলেন্সটির চাকা চুরি হয়, পরে আবারো কিছু যন্ত্রাংশ চুরি হয়। আমরা মোল্লাহাট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। গ্যারেজটা খুবই জরাজীর্ণ। চাকা না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সটি সরানোও যাচ্ছে না। এছাড়া আমাদের অ্যাম্বুলেন্স চালক ও নৈশপ্রহরী নেই। এসব বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. জালাল উদ্দিন বলেন, ‘লোকবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। আশা করি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।’










