জয়পুরহাটের বিভিন্ন উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১১ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা চাষীদের। বাজারে সরিষার ভালো দাম ও কম সময়ে ফসল ঘরে তুলতে পারায় প্রত্যেক বছরই জেলায় সরিষার আবাদ বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর, পাঁচবিবিতে ৪ হাজার ৮৭০ হেক্টর, কালাইয়ে ৩০০, ক্ষেতলালে ৯১০ ও আক্কেলপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের সরিষা আবাদ হয়েছে। ২০১৯-২০ মৌসুমে জেলায় ১০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়। মূলত জয়পুরহাট জেলাজুড়ে বারি ১৪, বারি ১৮, বারি ১৫, বেলা ৪, বেলা ৯ এবং বারি ১৭ জাতের সরিষার আবাদ করা হয়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে সরিষাবীজ বপন করা হয়। দুই থেকে আড়াই মাসের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। এক বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। প্রতি বিঘায় পাঁচ-ছয় মণ সরিষা পাওয়া যায়। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ সরিষা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা বম্বু ইউনিয়নের মোফাজ্জল হোসেন ও হাতিগাড়া গ্রামের কৃষক শিহাব উদ্দিন বলেন, আমন ধান কাটার পর পড়ে থাকা জমিতে প্রতি বছরই আমরা সরিষা আবাদ করি। এবার সরিষার গাছ যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি ফুলও খুব ভালো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ভালো ফলনের আশা করছি।

কালাই উপজেলার কুসুম সাড়া গ্রামের কৃষক হাসান, নূর, বজলুর রহমান ও ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের আনোয়ার, হেলাল বলেন, সরিষা কাটা-মাড়াই শেষে বাজারে বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আমরা আবার বোরো ধানের আবাদ করি। সরিষার জমিতে বোরো ধান আবাদ করতে অতিরিক্ত টাকাও লাগে না। এছাড়া জমিতে তেমন সার দিতে হয় না। ফলে অল্প খরচে বোরো ধান আবাদ হয়। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করে আমাদের বাড়তি লাভ হয়।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শ ম মেফতাহুল বারী বলেন, সরিষা চাষের জন্য আবহাওয়া অনুকূল রয়েছে। রোদের তীব্রতা অনেক, যা সরিষা চাষের জন্য প্রয়োজন। সরিষায় মাঠে এবার এখন পর্যন্ত রোগবালাই লক্ষ করা যায়নি। তাই সরিষার গাছ ও ফুল ভালো অবস্থায় রয়েছে। আশা করছি, এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে। গত বছরের তুলনায় এবার জেলায় সরিষার চাষও বৃদ্ধি পেয়েছে। সরিষা চাষ আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকদের মাঝে কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে এবং সরকারিভাবে বিনা মূল্যে ডিএপি, এমওপি, পটাশ, ইউরিয়া সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে।