ঠাকুরগাঁও কারাগারের খাদ্য সামগ্রী নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে কারা তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) জেলা প্রশাসকের বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সৈয়দ আব্দুল করিম নামে এক ঠিকাদার।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কারাগারে থাকা আসামিদের জন্য খাদ্য সামগ্রী প্রদান করে আসছেন এএসসি নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো. সৈয়দ আব্দুল করিম। কারাগারের ভেতরে থাকা আসামিদের জন্য তত্ত্বাবধায়কের হিসেব অনুযায়ী যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী প্রয়োজন হয় তা সরবরাহ করেন ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক খাদ্য সামগ্রী নেয়ার পর তা পুরোপুরি কাজে না লাগিয়ে পরিমাণে কম দিয়ে খাদ্য সামগ্রী পুনরায় ঠিকাদারকে ফেরত দিয়ে বিল করে চান। আর সেই বিল থেকে ৬০ ভাগ টাকা দাবি করেন তত্ত্বাবধায়ক। 

এছাড়া সকল মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রেও তত্ত্বাবধায়ককে ৫ ভাগ টাকা প্রদান করতে হয় বলে অভিযোগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। আর এ অনিয়মের কাজ ঠিকাদার করতে রাজি না হলে তত্ত্বাবধায়কের সাথে শুরু হয় কোন্দল। আর তা করতে রাজি না হওয়ায় ঠিকাদারের পাওনা টাকা পরিশোধে বিলম্ব করা হয়। ফলে উপায় না পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ মাসের প্রথম সপ্তাহে বিল পরিশোধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে কপিতে অনুলিপি প্রদান করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজি প্রিজন কারা অধিদপ্তর ঢাকায়।

এএসসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী মো. সৈয়দ আব্দুল করিম জানান, কারাগারে গড়ে তিন থেকে চারশ আসামি থাকেন। তাদের দৈনিক খাবারের জন্য যে পরিমাণ খাদ্য সামগ্রী প্রয়োজন তার হিসেব দেন তত্ত্বাবধায়ক। পরে দেখা গেছে খাদ্য সামগ্রী কম ব্যবহার করে তত্ত্বাবধায়ক মালামাল ফেরত দেন। ফেরত দেয়া মালামাল বাইরে বিক্রির করে ৬০ ভাগ অর্থ প্রদানে বিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক আসামিদের গড়ে ৩০ ভাগ খাদ্য কারাগারের ভেতরে অবস্থিত ক্যান্টিনে বিক্রি করে আসছেন। ‘আমরা ঠিকাদাররা স্বচ্ছতার সাথে মালামাল সরবরাহ করতে চাই বলেই লিখিত অভিযোগ দিয়েছি’ বলে জানান তিনি। 

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক মো. জাবেদ মেহেদী এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।