বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর তিনটি পাড়ার শতাধিক একর জুম চাষের জমিতে  অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলার এজাহার নিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার লাংকম ম্রোর করা আবেদনের শুনানি শেষে লামা থানাকে এ নির্দেশ দিয়েছেন লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল উদ্দিন।

মামলার বিবাদীরা হলেন লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিনসহ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, জহিরুল হক, আরিফ হোসেন, মো. নুরু, দেলোয়ার হোসেন, দুর্যোদন ত্রিপুরা ও হাজিরাম ত্রিপুরা।

মামলার এজাহারে বলা হয়, লাংকমপাড়া, রেংয়েনপাড়া ও জয়চন্দ্র ত্রিপুরাপাড়ায় ৩৯টি পরিবার শতাধিক বছর ধরে প্রজন্মপরম্পরায় বসবাস করে আসছে। ২৬ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে লামা রাবার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল উদ্দিনসহ মামলার আসামিরাসহ ১৫-২০ জন লোক দিয়ে তিন পাড়াবাসীর শতাধিক একর জুমখেত পুড়িয়ে দেয়। একই সঙ্গে শতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়।

স্থানীয়রা জানায়, অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর, ফলজ বনজ গাছ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এছাড়া নানা প্রজাতির পাখির ছানা, ছোট-বড় নানা প্রজাতির অগণিত বন্যপ্রাণীরও মৃত্যু হয়। 

মামলার বাদী লাংকম ম্রো বণিক বার্তাকে বলেন, ঘটনার পরদিন বুধবার লামা থানায় গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। তাই বৃহস্পতিবার লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করা হয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কামাল উদ্দিনের মোবাইল ফোনে বারবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন লামা কোর্ট পুলিশের জিআরও বিশ্বজিত সিংহ।