ঝিনাইদহে স্কুলের জায়গা দখল করে নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি রাখার অভিযোগ উঠেছে এক ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খড়াশুনি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, জোর করে মাঠে পাথর ও ভারী যন্ত্রপাতি রাখছেন তিনি। এসব যন্ত্রপাতির বিকট শব্দ ও টায়ার পোড়ানো কালো ধোঁয়ায় ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।

খড়াশুনি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কালীগঞ্জ উপজেলার তৈলকূপ এলাকায় একটি সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে মেসার্স শহিদুল এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দেড় মাস ধরে জোর করে স্কুলের খেলার মাঠে যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী রাখছেন তিনি। মাঠজুড়ে বসিয়েছেন প্লান্ট মেশিন। বিকট শব্দে ওই মেশিনে মিশ্রণ করা হচ্ছে পাথর ও বালি। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে পাথরের টুকরো। 

এছাড়া রাস্তার কাজে বিটুমিন গলানোর জন্য মাটি খুঁড়ে বসানো হয়েছে চুলা, পোড়ানো হচ্ছে টায়ার। নির্মাণসামগ্রীর ধুলাবালি ও টায়ার পোড়া কালো ধোঁয়ায় স্কুলসহ পুরো এলাকাই আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এর মধ্যেই স্কুলের দরজা-জানালা বন্ধ করে কোনো রকমে পাঠদান করছেন শিক্ষকরা।

পাশাপাশি স্কুলের বারান্দা দখল করে করা হচ্ছে রান্নার কাজ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের মাঠে নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে শিশুদের খেলাধুলা। স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলমাসের বাবা দবির উদ্দিন বলেন, ‘যেখানে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করা হয়, সেখানে যন্ত্রপাতি রাখায় শিক্ষার্থীসহ সবারই কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত এসব সরানোর দাবি জানাচ্ছি।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জমির হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জোর করে মাঠ দখল করে রেখেছে। নিষেধ করলেও তারা এর তোয়াক্কা করেনি।’

তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোশারফ হোসেন জানান, স্কুল বন্ধ থাকায় মাঠে নির্মাণসামগ্রী রেখেছিলেন তারা। দ্রুতই এসব সরিয়ে নেয়া হবে।’

আর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি মাঠ থেকে নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে না নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ঝিনাইদহ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহা. খালেকুজ্জামান।