ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার উন্নয়ন, সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণে ১২৭ কোটি টাকার প্রকল্প ২০১৪ সালে শুরু হয়। ২০১৮ সালের জুনে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতায় বাধার মুখে পড়ে প্রকল্পটি। পরে সময় বাড়িয়েও তা শেষ করা যায়নি। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর কারণে ৫২ শতাংশ ব্যয় বেড়েছে প্রকল্পটির। সর্বশেষ গত বছর ফেব্রুয়ারিতে কিছু সংশোধনী এনে নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪০ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে প্রকল্পে ত্রুটি ছিল। কোনো মাস্টারপ্ল্যান ছিল না। দুই হাজার বন্দির জন্য অবকাঠামো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন, গুদাম, ওয়াচ টাওয়ারসহ বেশকিছু কাজ রয়েছে প্রকল্পে। ভবনগুলোর আয়তন বাড়ানো ও নকশার অনেক পরিবর্তন করে মাস্টারপ্ল্যানের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। তবে কভিড মহামারীর মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় পুরো কাজ। গত বছর প্রকল্পে বেশকিছু সংশোধনী আনা হয়েছে। প্রথমে ১৩টি প্যাকেজে কাজ হলেও তা বাড়িয়ে এখন ৩০টি প্যাকেজে করা হবে। ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এরই মধ্যে ৫০ শতাংশের মতো কাজ হয়েছে। বাকি কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় চলে যায়। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পে বিভিন্ন সংশোধনীর প্রয়োজন হওয়ায় কাজ আটকে থাকে। এরপর কভিডের কারণেও কাজ বন্ধ ছিল। পরিবর্তন এনে একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি সংশোধন আকারে অনুমোদনও হয়েছে। আগে প্রকল্পে ১৩টি প্যাকেজ থাকলেও এখন ৩০টি প্যাকেজ রয়েছে। আশা করছি যথাসময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করা যাবে।’
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, কারাগারটি ৬৯ একর জমির ওপর ১৭৯২ সালে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে কাশর এলাকায় স্থাপন করা হয়। ১৯৯৭ সালে এটি কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত করা হয়। কারাগারটির বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৯৯৬ জন। অথচ বন্দির সংখ্যা প্রতিদিন ২০০০-২ হাজার ২০০ জন পর্যন্ত হয়। কারাগারটির উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলাকালে সীমানা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এ কারণে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখনো ১০-১২টি মামলা চলমান বলে জানিয়েছেন কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, জেলখানার ভেতর নির্মাণকাজ চলমান। তবে কাজগুলো কবে নাগাদ শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না। ধীরগতি ও বারবার বন্ধ হওয়ায় সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। এছাড়া নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় ঠিকাদাররা কাজ বন্ধ করে দেন। এখন নতুন করে ডিপিপি নির্ধারণ হওয়ায় আবার টেন্ডার ও কাজ শুরু হবে। কয়েকটি মামলার রায় কারা কর্তৃপক্ষের অনুকূলে আসায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে।
কারাগারের উন্নয়নকাজ ১০ বছরেও শেষ না হওয়ায় দ্বিগুণ বন্দি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলাতে শুরু হয়েছিল কারাগার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্পকাজ।
সম্প্রতি কারাগার ঘুরে দেখা গেছে, কারাগারে ৭০-৮০ জনের একটি কক্ষে মাত্র দুটি টয়লেট। আবাসনের অপর্যাপ্ততায় একসঙ্গে বেশি বন্দি থাকছেন। কারাগারে বন্দিদের মধ্যে অধিকাংশ মাদক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলায়ও প্রতিদিন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। কারাগারের মূল অংশের সামনে কাজের তথ্য সংবলিত একটি বোর্ড রয়েছে। তাতে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি কিশোর ব্যারাক, পুরুষ বন্দি ব্যারাক এবং কনডেম সেল, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সেল নির্মাণে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছিল। ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকার কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূরানী কনস্ট্রাকশন। পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি কারা অভ্যন্তরের এসব কাজ। এমন অবস্থা পুরো প্রকল্পেরই।
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার শাহ রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দিদের যাতে কষ্ট না হয়, সেজন্য সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। যথাসময়ে কারাগার সম্প্রসারণ শেষ হলে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।’










