ভারি বর্ষণে আবারো জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা। গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা বৃষ্টিতে নগরীর অনেক স্থানে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা দেয়। তবে রাত ২টার পর বৃষ্টি কমে এলে কিছু এলাকা থেকে পানি নেমে যায়। রাত ৯-১২টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টায় ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহওয়া অফিস।

এর আগে ২ জুন রাতে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীজুড়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তখন অধিকাংশ স্থান থেকে পরদিন পানি নেমে গেলেও অন্তত ১২টি এলাকার পানি নামতে সময় লেগেছিল।

শনিবার রাতে দেখা গেছে, নগরীর দরগামহল্লা, পায়রা, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কাজলশাহ, মেডিকেল রোড, বাগবাড়ী, কালীবাড়ী, হাওলাদারপাড়া, সোবহানীঘাট, উপশহর, যতরপুর, তেরোরতন, সোনারপাড়া, কেওয়াপাড়া, সাগরদিঘিরপার, পাঠানটুলা, মিয়া ফাজিলচিশত, জালালাবাদ, হাউজিং এস্টেট, শাহি ঈদগাহ, ঘাসিটুলা, হাওয়াপাড়া, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, মাছিমপুর, জামতলা ও তালতলায় পানি থইথই করছে। অনেক এলাকায় গতকাল দুপুর পর্যন্ত পানি ছিল।

নগরীর বাসিন্দারা জানান, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের সব নিচু এলাকায় জলাব্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেকে রাতের খাবার প্রস্তুত করার আগেই রান্নাঘর পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া অনেক বাসাবাড়িতে বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে ময়লা-আবর্জনাও ঢুকে পড়ে।

নগরীর দরগাহ মহল্লার বাসিন্দা ফরেস্ট হিল স্কুলের সাবেক শিক্ষক সালমা সিদ্দিকা রিমা বলেন, ‘রাত ১০টার দিকেই মহল্লার রাস্তা ডুবে যায়। প্রায় তিন ফুটের মতো পানি ছিল। বাসার সিঁড়ির কিছু অংশ পানিতে ডুবে যায়।’

লামাবাজার সরষপুরের বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করে রাত ১টার পর ঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যে ঘরে হাঁটু পানি জমে যায়। আসবাবপত্র কোনো কিছুই রক্ষা করতে পারিনি।’

শিবগঞ্জ সোনারপাড়ার বাসিন্দা আনসার মিয়া বলেন, ‘খাঁর পাড়া, সোনারপাড়া ও এর আশপাশে হাঁটুপানি জমে গেছে। অনেকের বাসা বাড়িতেও পানি ঢুকেছে।’

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, রাতে হাসপাতালের নিচ তলায় পানি ঢুকে পড়ে। তবে রোগীদের বিকল্প ওয়ার্ডে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। অবশ্য গতকাল বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিও নেমে গেছে।’

সিলেট আবহাওয়া অফিসর সহকারী আবহাওয়াবিদ শহা মো. সজিব জানিয়েছেন শনিবার সন্ধ্যা ৬-৯টা পর্যন্ত ৩ মিলিমিটার এবং ৯-১২টা পর্যন্ত ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর জানান, অনেক বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত যাতে নামতে পারে, সেজন্য কাজ করেছেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। এ কারণে সহজে পানি নেমে গেছে।