সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনাকে তার সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।

সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ যমুনা ছেড়ে দেবেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী গতকাল বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যমুনায় থাকার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা এ মাসেই বাসা ছাড়বেন। কিছু সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী যমুনায় উঠবেন।’

প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে গুলশানে নিজস্ব বাসায় থাকছেন। তিনি সেখান থেকে আবদুল গণি রোডের সচিবালয় ও তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনের ধ্বংসাবশেষকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ করার সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে জাদুঘরের নির্মাণকাজ চলছে। এর ফলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর থাকার সুযোগ নেই। তাই রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনাতেই উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ও সচিবালয়ে যাতায়াতের সুবিধার্থে রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনাকে তার সরকারি বাসভবন হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে।

গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি রমজানে ইফতার অনুষ্ঠান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরে অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান যমুনায় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সে আলোকে দ্রুতই যমুনার সংস্কারকাজ শেষ করা হবে।

এদিকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর জানায় বুধবার নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে বাসা বরাদ্দ দেয়ার কাজ শেষ হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিক চিঠি দেবে।

৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর—এ দুই বাংলোবাড়িতে এখন সাবেক প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা যমুনা থেকে চলে গেলে বাংলোবাড়ি দুটি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।